স্টাফ রিপোর্টার ॥ মহামারী করোনায় যশোর শহর আরও দুই জন সুপরিচিত মানুষকে হারালো। তারা হচ্ছেন আরএন রোড নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান কলি ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমিরুল ইসলাম রন্টুর ছেলে তমারুল ইসলাম। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তমারুল ইসলাম তমাল রোববার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লি. নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরি সূত্রে তমাল ঢাকায় অবস্থান করলেও তার বাবা-মা যশোর শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসিফ নিপ্পন জানান, রোজা শুরুর দিকে তমাল অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার পর্যন্ত অবস্থা খুবএকটা খারাপ ছিল না। ডাক্তাররা পাজমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। পাজমা জোগাড়ও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ডাক্তাররা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ওই রাত নয়টার কিছু সময় আগে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের করোনায় মৃতদের দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান জানান, তাদের প্রশিতি সদস্যরা কারবালা গোরস্থানে দাফন কাজ শেষ করেছেন। অপরদিকে রাজধানীতে মারা যাওয়া আনিসুর রহমান কলি (৫৬) কে যশোরে তার পৈত্রিক বাড়িতে এনে কারবালা গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে তার নিকটজনরা বলছেন। মৃত কলিকে দাফনের ব্যবস্থা করতে স্বজনদের প থেকে যোগাযোগ করা হয় শহরের পুরাতন কসবা এলাকার শফিকুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বাধীন ‘দাফনযোদ্ধা’দের সঙ্গে। এই টিম দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটায় তারা কলিকে দাফন করেন। মৃত আনিসুর রহমান কলির বাড়ি যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে নতুন বাজারের পেছনে। ব্যবসাসূত্রে তিনি পুরান ঢাকার ওয়ারি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। রাজধানীর নবাবপুরে তার কৃষি পার্টসের ব্যবসা রয়েছে।
মৃত কলির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন যশোর বড়বাজারের ইজারাদার ও সিটি কেবলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোশাররফ হোসেন বাবু। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে জানান, কলি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রথমে তাকে রাজধানীর আনোয়ার খান হসপিটালে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে সোমবার রাতে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু তার ভাষায়, ডাক্তার না থাকায় সেখান থেকে মিরপুর ১২ নাম্বারের রিজেন্ট হসপিটালে নিয়ে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেন্টিলেশন পাওয়ায় তা খুবএকটা কাজে লাগেনি। মারা যান কলি। এদিকে, কলির মরদেহ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের কিছু সময় আগে স্বজনরা যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত সোয়া নয়টার দিকে মরদেহ পৌঁছায় যশোরের বাড়িতে। রাতে জুয়েলের নেতৃত্বাধীন টিম মরদেহ দাফন করে। আনিসুর রহমান কলি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়া শার্শার চটকাপোতা গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিকে দাফন করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। এদিন সংস্থাটির স্বেচ্ছাসেবীরা যশোরের শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের মৃত মো. হুমায়ুন কবিরকে (৫৯) দাফন করেন; যিনি রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের গ্রেটার যশোরের অর্গানাইজার খান-এ আলম মানিক জানান, হুমায়ুন কবির করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার ভাই কর্নেল (অব.) ডা. মোহাম্মদ শাহজাহানের অধীনে রাজধানীতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। মাগরিবের পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার ভোর চারটায় মরদেহ পৌঁছায় গ্রামে। দরকারি কার্যক্রম শেষে তারা সকাল সাড়ে সাতটায় দাফনকাজ শুরু করে শেষ করেন পৌনে নয়টায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত হুমায়ুনকে দাফনের সময় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মৃতের বাড়িটিকে লকডাউন করে দেন।




