যে কোনো ক্রান্তিকালে ব্যক্তি কি পরিবারের মানসিকতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা যেমন প্রকাশিত হয়; বিপরীত দিকে বিভাজন, অমানবিকতা, অসহযোগিতাও প্রকাশ হয়ে থাকে। ভয়ঙ্কর করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এক বৈশ্বিক যুদ্ধের আকারে। করোনা আমাদের জাতীয় জীবনে বিপদ। দুঃখ-কষ্ট ও অনিশ্চয়তার আঘাত হানা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনধারণের সমস্যা প্রকটতর করে তুলেছে। সর্বোপরি এই জাতীয় মহাদুর্যোগ সরকারের একার পক্ষে সামাল দেয়া মোটেই সম্ভব নয়। এ জন্য পূর্ণমাত্রায় দরকার সামাজিক সংহতি, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত ও ছোট ছোট দলগত উদ্যোগে বিপন্ন মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহযোগিতাসহ নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক তৎপরতা চলছে। অনেকে একেবারে নিভৃতেও সহযোগিতা করছেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে লাখ লাখ মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করোনা-দুর্যোগে কোনো না কোনো প্রতিকারমূলক কাজে নেমেছে। বিপন্ন মানুষের সহযোগিতায় ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় বলে মনে করি। কারণ, এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে একটি সমাজের স্বাভাবিক সংবেদনশীলতা, মানবতাবোধ ও পরার্থপরতার প্রকাশ ঘটে।
মহামারীতে আক্রান্তদের সেবায় পুরো বিশ্বে এক নম্বরের যোদ্ধা হলেন চিকিৎসক ও নার্স। করোনা-আক্রান্ত প্রতিটি দেশেই তাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই গুরুতর সঙ্কটকালে তারাই আমাদের অন্যতম ভরসা। বড় রকমের ঝুঁকির মধ্যেও তারা রোগীদের চিকিৎসার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সব দেশেই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, পিপিইর ব্যাপক ঘাটতি রয়ে গেছে। আর যেসব পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোর সিংহভাগই মানসম্মত নয়। এন-৯৫ মাস্ক ছাড়া করোনা রোগীর সামনে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও চিকিৎসকদের এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ করা হয়নি। বিদেশ থেকে এন-৯৫ মাস্ক আমদানির খরচ দেখিয়ে সরবরাহ করা হয়েছে দেশে তৈরি নিম্নমানের মাস্ক, এমন অভিযোগও উঠেছে। যা মোটেও কাম্য নয়। তবে এই পরিস্থিতিতেও আমাদের দেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে লাখ লাখ মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করোনা-দুর্যোগে কোনো না কোনো প্রতিকারমূলক কাজে নেমেছে। বিপন্ন মানুষের সহযোগিতায় ব্যক্তিগত উদ্যোগগুলোকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় বলে মনে করি।





