ঘরেই হোক ঈদ আনন্দ

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। যদিও এবার কোলাকুলি হচ্ছে না ঈদে। হচ্ছে না বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা কিংবা আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে সালাম করা। করোনাভাইরাসের থাবায় নিদারুণ আতঙ্কে কাটছে দিন। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজের মতো ঈদের খুশিতে মেতে উঠতে বাধা নেই।
মেহমান না আসুক, তাই বলে কি অন্দর সাজবে না উৎসবের সাজে? সাজানো-গোছানো ঘর কিন্তু মনেও এনে দেবে প্রশান্তি। ছোটখাট কিছু বদলের মাধ্যমে ঈদ আবহ নিয়ে আসতে পারেন ঘরে। বিছানায় নতুন চাদর বিছিয়ে দিন। নতুন পর্দা থাকলে সেগুলোও বদলে দিতে পারেন। বারান্দায় রাখা মানিপ্ল্যান্টের টবটি নিয়ে আসতে পারেন ঘরে। চাইলে একটি চারা কাচের বোতলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিন। বোতলটি রাখুন সেলফের ওপর। গাছে রঙিন ফুল থাকলে সেগুলো সংগ্রহ করে একটি ছড়ানো পাত্রে পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিন। ঘরের এক কোণে রেখে দিন ফুল ভাসা পাত্রটি। উইন্ডচাইম বানিয়ে ফেলতে পারেন নিজেই। অথবা ড্রিমক্যাচার। ঘরে যদি থাকে ফেইরি লাইট, তবে সন্ধ্যায় ঘর অন্ধকার করে জ্বেলে দিন। ফুলের পাত্রতে ভাসমান মোম ছেড়ে দিতে পারেন। অনেকদিন যাবত আসবাবগুলো একই জায়গায় দেখতে দেখতে বেশ একঘেয়েমি চলে আসে। ঘরের সাজে খানিকটা নতুনত্ব আনতে ছোটখাট কিছু বদল আনতে পারেন। যেমন ল্যাম্পশেডের স্থান বদল করে দিতে পারেন। খাটের সাইড টেবিলে রাখতে পারেন সবুজ গাছসহ মানানসই টব। বসার ঘরের কোণে শতরঞ্জি আর কুশন দিয়ে করে ফেলতে পারেন আড্ডা দেওয়ার চমৎকার জায়গা।
ঈদের দিন বিশেষ কিছু রান্না না করলে কি হয়? হাতের কাছে যা আছে তা দিয়েই মজার কিছু রেঁধে ফেলুন। রিবারের সবাই একসঙ্গে খেতে বসুন, আড্ডা দিন। দেখবেন ঈদ আনন্দ নেমে এসেছে ঘরেই।
ঈদের পোশাক হয়তো এবার কেনা হয়নি। তাতে কী? সবচেয়ে পছন্দের পোশাকটিকেই আপন করে নিন। সঙ্গে হালকা সাজও নিয়ে আসবে উৎসবের আমেজ। চুল বেঁধে, কাজল আর টিপ পরে সেজে নিন মনের মতো। বিকেলের আড্ডায় ডেকে নিতে পারেন প্রিয়জনদের। তবে অবশ্যই ভার্চুয়ালি। ভিডিও কলেই এবার নাহয় ভাগাভাগি হোক ঈদের আনন্দ। ঈদ উপলক্ষে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়দের মধ্যে দান করতে পারেন অর্থ বা খাবার। তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিপর্যয়ের এই সময় শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও কিন্তু ভীষণ জরুরি। তাই দুঃসময়ের আফসোস না রেখে সচেতনতার সাথে সামর্থ্যের মধ্যেই আনন্দে কাটান এবারের ঈদ। মনে রাখবেন, আতঙ্কের সময় একদিন কেটে যাবে, সেদিন মুক্তির আনন্দ উপভোগের জন্য আপনাকে কিন্তু সুস্থ থাকতেই হবে!