আম্ফানের তান্ডবে মনিরামপুর লন্ডভন্ড,কয়েক শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ

এস এম মজনুর রহমান,মনিরামপুর(যশোর)॥ একেতো মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমনে জনজীবন বিপর্যস্থ। তার উপর বুধবার রাতে প্রলয়ংকারী ঘূর্নিঝড় আম্ফানের ছোবলে যশোরের মনিরামপুর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। গাছচাপা পড়ে স্বাামী-স্ত্রী, পিতা-পুত্রসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। কয়েক শতাধিক কাঁচা অর্ধপাকা বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে গেছে। বিদ্যুতের প্রায় তিন’শ পোল(খুটি) ভেঙ্গে এবং তার ছিড়ে যাওয়ায় গত তিনদিন যাবত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে মোবাইল, টোলিফোন লাইন অচল হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরোধান সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে গেছে। হাজার হাজার গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। ঘূর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে জনজীবন আরো বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সরকারি ভাবে এসব মানুষকে এখনও পর্যন্ত কোন সাহায্য করা হয়নি। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় শুক্রবার বিকেল তিনটার থেকে মনিরামপুর পৌরশহরের আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
জানাযায়, ঘূর্নিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মনিরামপুরে বুধবার দুপুর থেকে ঝড়ো হাওয়া এবং গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এক নাগাড়ে চলতে থাকে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি। সন্ধ্যার পর থেকে ঝড়বৃষ্টি প্রয়লংকারীর রূপ ধারন করে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাতভর চলে প্রলয়ংকারী ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডব। এ তান্ডবে মশ্বিমনগর ইউনিয়নে গাছ চাপা পড়ে নিহত হয় পাঁচজন। ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, বুধবার রাতে গাছ চাপায় পারখাজুরা গ্রামেই পাঁচজন নিহত হয়।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পৌরশহরের গাংড়া, মহাদেবপুর, হাকোবা, দূর্গাপুর, কামালপুর, বিজয়রামপুর, উপজেলার মশ্বিমনগর, ঝাপা, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, খানপুর, হরিহরনগর, মনোহরপুর, নেহালপুর, কুলটিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধিক কাঁচা এবং অর্ধপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়। হোগলাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রইচ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা, চাঁদপুর মাঝিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজ পল্লী মহাবিদ্যালয়, মনিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, তিনি শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাতে পেয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হবার কারনে ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান করতে আরো দুই একদিন সময় লাগতে পারে।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার অরুন কুমার কুন্ডু জানান, সমিতির আওতাধিন বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৬০ টি পোল(খুটি) ভেঙ্গে পড়েছে। তবে এর পরিমান আরো বাড়তে পারে। এছাড়া তার ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাতদিন একহাজার শ্রমিক কাজ করছে। বিশেষ ব্যবস্থায় তিনদিন পর শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে মনিরামপুর পৌরশহরের আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। জেনারেন ম্যানেজার আরো জানান, বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত মেরামত করতে এই মুহুর্তে প্রায় পাঁচ’শ লাইনম্যান প্রয়োজন। কিন্তু এ সমিতিতে কাংখিত লাইনম্যান না থাকায় পিরোজপুর এবং শরিয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে এক’শ জন লাইনম্যান(পোলে উঠে কাজ করার জন্য)মনিরামপুরে আনা হচ্ছে। তিনি আশা করেন দুএকের মধ্যে সমিতির আওতাধিন সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, ঘূর্নিঝড় আম্ফানের তীব্রতায় ভেঙ্গে পড়েছে হাজার হাজার গাছপালা। কয়েক’শ হেক্টর জমির বোরো পাকাধান জমিতে নষ্ট হয়ে গেছে। শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আম, কাঠাল, পেপে, জামরুল, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি ক্ষেত। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনি খবর পাবার পর সরেজমিন গিয়ে জেনেছেন খাকুন্দি গ্রামের কৃষক গোপাল ব্যানার্জীর মৃত্যু গাছের চাপায় হয়নি। তার মৃত্যু হয়েছে ষ্ট্রোকে। এ দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বৃহস্পতিবার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফী শুক্রবার পরিদর্শনে যান পাখাজুরা গ্রামে নিহত পাঁচ জনের বাড়িতে। এ সময় তারা নিহতের পরিবারবর্গকে স্বান্থনা দিয়ে সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি রোহিতা, ভান্ডারী, খেদাপাড়া, তালতলাসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কয়েকজনকে আর্থিক সহযোগীতা করেন।

ভাগ