সাত জেলায় নিহত ১৫

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের দুর্যোগে মধ্যে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। সুপার সাইকোন আম্পান শক্তি কিছুটা হারিয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে বুধবার দুপুরের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানে। পরে রাতে এ ঝড় প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ঝড়ের মধ্যে প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে, ঘরবাড়ি তিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন উপকূলের ১০ লাখ গ্রাহক। এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যুর খবর এসেছে তাদের বেশিরভাগই ঝড়ে গাছ বা ঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে যশোরে ৬জন, পিরোজপুরে তিনজন, পটুয়াখালীতে দুজন এবং ঝিনাইদহে, সাতীরা, ভোলা ও বরগুনায় একজন করে নিহত হয়েছে।
যশোর
ঝড়ের মধ্যে রাত ১০টার পর যশোরের চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এক মা ও তার শিশু কন্যার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি। চাঁদপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর রহমান জানান, রাতে প্রবল বাতাসে একটি জাম গাছ ভেঙে ওই পরিবারের কাঁচা ঘরের ওপর পড়ে। তাতে মা খ্যান্ত বেগম (৪৫) ও মেয়ে রাবেয়া (১৩) ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ছেলে আল-আমিন (২২) আহত হন বলে শাহিনুর রহমান জানান। অপরদিকে শার্শায় মারা গেছেন দুই জন। তারা হচ্ছেন উপজেলার বাগআচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর টেংরা ওয়ার্ডের সদস্য মুজাম গাজী জানান, টেংরা গ্রামে ঝড়ে গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়লে মুক্তার আলি নামে ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি এলাকায় নসিমন চালাতেন। অপরদিকে গোগায় মারা গেছেন ময়না বেগম নামে এক নারী। তিনি ওই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাজাহানের স্ত্রী। অপরদিকে বাঘারপাড়ার বুদোপুরে গাছ চাপা পড়ে মারা গেছেন ডলি বেগম (৪৮) নামে এক নারী ।
পিরোজপুর
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের মধ্যে মঠবাড়িয়া উপজেলায় দুই জন এবং ইন্দুরকানী উপজেলায় একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মোজাহারুল ইসলাম। ওই তিনজন হলেন- মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে শাহজাহান মোল্লা (৫৫) ও আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামে মুজাহার বেপারীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম (৭০) এবং ইন্দুরকানী উপজেলার উমিদপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে শাহ আলম (৫০)। মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. মাসুদুজ্জামান জানান, শাহজাহান মোল্লা মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের পিছনে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলেজের পেছনে বাসায় যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোজাহার বলেন, “আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামের গোলেনুর বেগম সন্ধ্যায় নিজের ঘর থেকে পাশের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বাতাসের ধাক্কায় তিনি পা পিছলে পড়ে আঘাত পান, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।“ আর ইন্দুরকানী উপজেলার উমিদপুর গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করলে ‘আতঙ্কিত হয়ে’ ঘরের ভেতরেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান মোজাহার।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে রাতে ঝড়ের মধ্যে ঘরের উপর গাছ ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। তিনি বলেন, রাত ১০টার পর ঝড়ের দাপট বাড়লে সদর উপজেলায় হলিধানী গ্রামে একটি গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে নাদিরা বেগম নামে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীর মৃত্যু হয়।
সাতীরা
ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতীরা সদরে গাছ ভেঙে পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, বুধবার সন্ধ্যার পর জেলা শহরের কামালনগরে আমগাছ গাছ ভেঙে পড়ে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
পটুয়াখালী
আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গাছ পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) এক সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গলাচিপা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ছয় বছরের শিশু রাসেদ নিহত হয়েছে। ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যায় উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খরিদা গ্রামের শাহাজাদা মিয়ার ছেলে রাসেদ (৬) মায়ের সঙ্গে আশ্রয় কেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথে ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ঘটনাস্থলে রাসেদের মৃত্যু হয়। রাসেদের মাও আহত হন। কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক জানান, এলাকায় জনসচেতনতায় প্রচার চালাতে গিয়ে সকালে ধানখালীর ছৈলাবুনিয়ায় খালে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হন সিপিপি দলনেতা শাহ আলম। নয় ঘণ্টা পর ডুবুরিরা তার মরদেহ উদ্ধার করে। “তার পায়ে গামবুট ও জ্যাকেট থাকায় তিনি সাঁতরাতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
ভোলা
ভোলার চরফ্যাশনে ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার দণি আইচা থানার প্রধান সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দণি আইচা থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, ছিদ্দিক ফকির নামের ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধ বয়স্ক ভাতা আনার জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলে উপজেলা সদর চরফ্যাশনের দিকে যাচ্ছিলেন। “এ সময় ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
বরগুনা
বরগুনার সদর উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্র যাওয়ার পথে এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ‘অসুস্থ হয়ে’মারা গেছেন। শহীদুল ইসলাম নামের ৬৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। পরীরখাল বাজারে রেস্তোরাঁ চালাতেন তিনি। বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার জানান, শহীদুল আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ সেলিম জানান, এ ইউনিয়নের পরীরখাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে শহীদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। “আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে হৃদরোগে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

ভাগ