আম্পানের প্রভাবে যশোরের সবজি মাছ আম লিচু ও পানের ক্ষতির আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার॥ সুপার সাইকোন আম্পানের প্রভাবে যশোরের সবজি, আম, লিচু ও পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের মতে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো। এর মধ্যে খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর উল্লেখযোগ্য। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. আকতারুজ্জামান বলেন, আমরা একটা ক্ষেত্রে বড় স্বস্তিতে আছি যে আম্পানের আঘাতের আগেই জেলার বোরো ধান কেটে ঘরে তুলতে পেরেছি। তবে জেলার ৪ হাজার হেক্টর আম, ৭০০ হেক্টর লিচু, ১১ হাজার হেক্টর পান ও ২০ হাজার হেক্টর সবজি ক্ষেত নিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় রয়েছি। সুপার সাইকোন আম্পান যে গতিতে আঘাত হানার আশংকা করা হচ্ছে তাতে নিশ্চিত এসব ফসল ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। এদিকে বুধবার বিকেলে জেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে অধিকাংশ এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যশোর সদর উপজেলার নোঙরপুরের বিস্তীর্ণ মাঠের করোলা ক্ষেতের মাচা ভেঙ্গে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, পুইশাক-লাল শাকসহ বিভিন্ন সবজি। এছাড়া অভয়নগর ও মনিরামপুর এলাকায় পানের বরজেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আম্পান উপকূলে আঘাত হানার আগেই বাতাসের প্রভাবে পানের বরজ ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। এসময় আম ও লিচু ঝরে পড়ে। প্রবল বাতাসে ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ঝড়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা আপাতত বলা যাচ্ছেনা। শেষ হওয়ার পর ক্ষতির পরিমান কী পর্যায়ে তা বলা যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আকতারুজ্জামান বলেন, আম্ফানের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন রয়েছি। ইতিমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ফসল রক্ষায় আমাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ যে বার্তা পাঠিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোরো ধান ৮০ শতাংশ পরিপক্ক হলে দ্রুত সংগ্রহ করে ফেলতে হবে। সংগ্রহ করা ফসল পরিবহন না করা গেলে গাদা করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যেন ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে ক্ষতি না হয়। একই সঙ্গে দ্রুত পরিপক্ব সবজি ও ফল সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া এসময়ে বালাইনাশক প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। এ কৃষিবিদ আরও বলেন, এ নির্দেশনার পর থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সতর্ক হওয়ার থাকার পরামর্শ দিয়েছি। এদিকে ঝড়ের প্রভাবে সাগরে নি¤œচাপ সৃষ্টি হওয়ায় বৃধবার সকাল থেকে যশোরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে চরম হুমকির মুখে পড়ে এ অঞ্চলের মাছ চাষ। বিশেষ করে প্রবল বৃষ্টির কারণে পুকুর, জøলাশয় ও ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা মাছ চাষির। জেলা মাছ ব্যবসায়ী ও হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার বলেন, ঝড়ের প্রভাবে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে তাতে আমরা আমরা খুবই চিন্তায় আছি। ভারি বৃষ্টিপাত যদি অব্যাহত থাকে তাহলে পুকুর ও ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বাভাবিক বৃষ্টিতে মাছ চাষ আরও ভালো হবে বলে তিনি মত দেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য ইতিমধ্যে জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এসব কন্ট্রোলরুম সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে। তিনি বলেন, ঝড়ের প্রভাবে যে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে তাতে আমাদের আশঙ্কা অভয়নগর, কেশবপুর ও মনিরামপুর এলাকার কিছু ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব ক্ষতির পরিমাণ কী পর্যায়ে যাবে তা জানতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ভাগ