আশ্রয়কেন্দ্রে নির্ঘুম রাত উপকূলবাসীর

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট ॥ সুপার সাইকোন আম্পান আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কেটেছে উপকূলীয় বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলাবাসীর। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকা স্বত্ত্বেও রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে অনেকে এক সাথে রয়েছেন। নদীর পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যারা নিজ বাড়িতে ছিলেন তারাও ঝড় আতঙ্কে কাটিয়েছেন নির্ঘুম রাত। আগের দিন রাতভর আশ্রয়কেন্দ্র গেছেন মানুষ। গতকাল সকালেও গেছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার গবাদিপশুও নিয়ে যান আশ্রয়কেন্দ্রে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সরকারি হিসেবে বাগেরহাটের ৯৫ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ১৫ হাজার গবাদিপশুকেও আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে রাখা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে সবাই আরও বেশি আতঙ্ক নিয়ে অপো করছেন ঘূর্ণিঝড় আম্পানের। বাগেরহাটের নদ-নদীতে দ্রুত গতিতে পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জারির পর আতঙ্কে বেড়েছে কয়েকগুন।
শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদীর পাড়ের বগী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বলেশ্বর নদীর পাড়ে আমাদের বসবাস। বন্যার খবর পেয়ে রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাই। সেখানে করোনা সংক্রমণের ভয় উপো করে ঠাঁসাঠাঁসি করে অবস্থান করছি। শুনেছি ঝড়ের ফলে ১০ ফুট পানি উঠবে। তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু সবকিছু ভেসে যাবে। কিছু থাকবে না। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ, কৃষক সামসুর রহমান, রুহুল আমিনসহ কয়েকজন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম সারারাত। কিন্তু আশ্রয়কেন্দ্রে কি ঘুমানো যায়। এর সাথে রয়েছে বাড়ি-ঘরের চিন্তা। সারারাতই একে অপরের সাথে সিডরের বীভৎস্যতা ও আম্পান কত ভয়ঙ্কর হবে সেই আলোচনা করে কাটিয়েছি। ঘুম থেকে উঠে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত শোনার পরে পরানে আর পানি নেই। এখন আল্লাহই আমাদের ভরসা। স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রত্যেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে ধারণ মতার দ্বিগুণ মানুষ অবস্থান করছেন। অনেকেই নানা সমস্যার কারণে সেহরি খেতে পারেননি। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিনুজ্জামান বলেন, রাতে শরণখোলার কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র আমরা পরিদর্শন করেছি। আশ্রয় নেয়া মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছে। আমরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় দুর্গত মানুষদের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের খবরের পর থেকে জেলাব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় এক লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র নিয়েছি। ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দুর্গতদের জন্য কাজ করছে। প্রত্যেক উপজেলায় জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুতত রয়েছে। জেলা সদর ও ৯টি উপজেলা মোট ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে মানুষের জানমালের কম তি হয় সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

ভাগ