বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণে আক্রান্ত গৃহবধূ অবশেষে তার ৮ দিনের শিশু সন্তান নিয়ে গতকাল বাড়ি ফিরেছেন। ১১ দিন হাসপাতালে ভাইরাসের সাথে লড়াই করার পর তিনি সুস্থ হলেন। তার চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সরকারের কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর ২টার পর জান্নাতিকে (২৮) করোনা প্রতিরোধের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সযোগে সরকারি খরচে নিজ বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির ভেতর জন্ম হওয়া ওই শিশুটির নাম রাখা হয়েছে কারিনা সুলতানা ওরফে আছিয়া। করোনা মোকাবেলায় গৃহীত বেসরকারি জেনোসিস হাসপাতালে গত ১২ মে জান্নাতিকে সিজার করা হয়। সিজারের পর শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয়। বাংলাদেশে জেলা পর্যায়ে করোনায় আক্রান্ত জান্নাতির সিজার ছিল প্রথম। গত ২৩ মে’র রিপোর্টে জান্নাতি করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছিলেন। এরপর ৬ বার তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ অবস্থায় ৯ মে তাকে সিজার করার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনামুক্ত হলে এ হাসপাতাল থেকে গত ১২ মে তাকে জেনেসিস হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয় এবং ওইদিনই তাকে সিজার করা হলে তিনি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। চিকিৎসকগণ তার নাম রাখেন কারিনা সুলতানা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নামের সাথে আছিয়া নামটিও যুক্ত করা হয়। একটানা ৮ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জান্নাতি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর গতকাল (২০ মে) তাকে সরকারি খরচে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। জান্নাতি চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বানুরহুদা গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। এ সময় জান্নাতি তার স্বামী আলমগীর হোসেন, ৮ বছরের ১ম কন্যা নুসরাত নবজাতক কারিনা সুলতানা ও সঙ্গে থাকা মা চায়না বেগম মিলে মোট ৫ জনের নমুনা নতুন করে সংগ্রহ করা হয়। জান্নাতি ছাড়া কারোর এর আগে করোনা ধরা পড়েনি। তাকে পাঠানোর সময় করোনামুক্ত পুষ্পার্ঘ্যসহ করোনামুক্ত ফল শিশুর নতুন জামা-কাপড় (বেবিসেট) দেয়া হয়েছে। সাথে ভুনাখিঁচুড়িও দেয়া হয়। ডা. শেখ আবু শাহীন, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. লুৎফুননেছা জান্নাতির হাতে এসব তুলে দেন। এ সময় তার চিকিৎসার কাজে প্রধান সমন্বয়কারী যশোর বিএমএর সাংস্কৃতিক ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান পান্নু, দপ্তর সম্পাদক ডা. গোলাম মোর্তজা, ডা. সোহাগ দাস, নার্সিং সুপার ভাইজার মরিয়ম, সিনিয়র স্টাফ নার্স মর্জিনা খাতুন, মদিনা সুলতানা, প্রতিমা রাণী উপস্থিত ছিলেন। তার চিকিৎসায় অংশ নেয়া ১০ জন চিকিৎসক, ৯ জন নার্স ও ১ জন আয়াকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে তাদের আবাসিক হোটেলে থাকা-খাওয়া, পিপিইসহ আনুসঙ্গিক খরচ মিলে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. নিলুফার ইয়াসমিন এমিলি জান্নাতিকে গত ১২ মে সিজার করার মধ্য দিয়ে করোনা পরিস্থিতিতে ইতিহাস গড়েন। তার সাথে সহযোগিতা করেন এনেসথেশিয়া চিকিৎসক ডা. মো. আনিছুর রহমান, ডা. সোহাগ দাস, সিনিয়র স্টাফ নার্স আনোয়ারা খাতুন, লিনা নাসরিন, কাকলী ও রোকসানা। সিভিল সার্জন, হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক, আরমএও বিষয়টি তদারকি করেন। বাড়ি ফেরার সময় জান্নাতি তার চিকিৎসা কাজে সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যভাদ জানান।




