এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় বৃষ্টির কারণে ধানঝাড়া (মাড়াই) ও বিচালি পালা দেওয়া নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকের মাঠে ধান, বাড়ির উঠানে ধান, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিচালি (গোখাদ্য)। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অবশ্য রাত-দিন পরিশ্রম করে ফলানো ধান রা করতে পারলেও বিচালী রয়েছে অনেকটা অরক্ষিত।
উপেজলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মওসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। এ ধান উৎপাদনের সঙ্গে উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক পরিবার জড়িত। কৃষি বিভাগের দাবী আবাদ হওয়া জমি থেকে প্রায় এক লাখ সাত হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে। কৃষক পরিবারগুলো এই বিপুল পরিমাণ ধান কেটে, মাড়াই করে ও পরিষ্কার করতে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন। রমজানের সেহেরী খাওয়ার পর থেকে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ধান কাটা, ঝাড়া আর পরিষ্কার করার কাজ। অপরদিকে করোনা ও লকডাউনের কারণে দেশের অন্য এলাকা থেকে যে বিপুল সংখ্যক কৃষিশ্রমিক এ সময় এলাকায় কাজের জন্য আসেন, এবার আসতে পারেননি। ফলে কৃষক পরিবার গুলোর ওপর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। ধান ঘরে তুলতে অন্য বছর লাগে দশ দিনের মতো, সেখানে এবছর ২০ দিনও সে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। ধান কাটা ঝাড়ার ব্যাপারে জানেত চাইলে হুদাফতেপুর গ্রামের মাওলানা আলী আকবর বলেন, ‘এ বছর এই সময় বৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটা-ঝাড়ায় চরম সমস্যা হচ্ছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর কারণে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে আমাদের ব্যাপক তি হবে।’ সিংহঝুলি গ্রামের সাবের আলী সরদার, সাইফুল ইসলাম, নাকিব খান নেকো, জেহের আলী সরদার, সামছুল হুদা দফাদার, টনিরাজ, সাগর খানসহ অনেক কৃষক বলেন, কৃষিশ্রমিকের চরম সংকটের মধ্যে দিয়ে এবার তাদের ধান কাটা-ঝাড়ার কাজ করতে হচ্ছে। এরপর আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক তি হবে। তারা আরো বলেন, ধান কিছুটা সংরণ করা গেলেও বিচালি (গোখাদ্য) এখন পর্যন্ত মোটেই সংরণ করা যায়নি।
মাজালি গ্রামের চাষি সহিদুল ইসলাম,আশাদুল ইসলাম, ইন্তাজ আলী বলন, এখনই প্রতি কাউন বিচালির দাম চার হাজার টাকা। আর যদি বিচালি নষ্ট হয়ে যায়. তাহলে গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দেবে। কয়ারপাড়া গ্রামের ধানচাষি ইউনুচ আলী, আরশাদ আলী, আব্দুস সামাদ বলেন, চলতি মওসুমে বোরো ধান কাটতে ও মাড়াই করতে অন্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খরচ হয়ে যাচ্ছে। কারন জানতে চাইলে তারা বলেন, অন্য এলাকা থেকে কৃষি শ্রমিক না আসা এবং জমিতে পানি থাকার কারণে গরুর গাড়ি জমিতে নিতে না পারায় বেশ খরচ বেড়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার খবর কৃষকদের জানাচ্ছি; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে। কৃষকদের আমরা আরো বলেছি, প্রথমে ধান সংরণ করতে, এরপর গোখাদ্যের দিকে নজর দিতে।’ তিনি আরো বলেন, উপজেলায় চারটি বড় হারভেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটা ও মাড়াই এর কাজ চলছে।





