আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূল জুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়াও বইছে। বৃদ্ধিপাচ্ছে নদ-নদীর পানি। সময় যত গড়াচ্ছে সিডর ও আইলা বিধ্বস্ত শরণখোলা উপজেলাবাসীর আতঙ্ক তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে সুন্দরবনের কোলাঘেষা বলেশ্বর নদীর তীরে এই উপজেলার অবস্থান। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ এর পোল্ডারের তিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ। দুই মিলে ঝড় ও জলচ্ছ্বাসের খবরে আতঙ্কিত হয় এলাকাবাসী। তবে এবারের শঙ্কা অনেক বেশি। কারণ কয়েকদিন আগে ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী উইনিয়নের গাবতলা ও বগি অংশের একশ মিটারের উপরে বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।বেড়িবাঁধ সংলগ্ন আশার আলো মসজিদ কাম সাইকোন শেল্টারটিও মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। যারফলে এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকগুন বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।আম্পান আঘাত হানলে তিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ থেকে পানি ঢুকে সাউথখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হবে।গবাদি পশু ও যানমালের ব্যাপক তির শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় নান্টু শেখ, রহিম, লুলু মল্লিক বলেন, বলেশ্বর নদীর পাশে বেড়িবাঁধ না থাকায় সিডরের সময় শরণখোলা উপজেলাবাসী সব থেকে বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে। এবার বেড়িবাঁধ থাকার পরও আমরা শঙ্কায় আছি। বেড়িবাঁধের যে অবস্থা একটু জলোচ্ছ্বাস হলেই আমাদের গ্রামসহ কয়েকটি গ্রাম ভেসে যাবে। শুকনো মৌসুমে বার বার বলা স্বত্তেও পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের এই ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করেনি। আর কত যান মাল হারাবো আমরা নদী গর্ভে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, যেকোন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী, গাবতলা, চালতেবুনিয়াসহ কয়েকটি গ্রাম সব থেকে বেশি তিগ্রস্থ হয়। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে জলচ্ছাস থেকে রার জন্য দেওয়া বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। যারফলে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবন বাঁচানোর জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও মূল্যবান জিনিস ও গবাদি পশু রেখে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যেত রাজি হয়না। এছাড়া আমাদের এইসব এলাকায় মানুষের তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের পরিমান অনেক কম। সবকিছু মিলিয়ে ঘূর্নিঝড়টি যদি তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে আঘাত হানে তাহলে সাউথখালী ইউনিয়নবাসীর অপূরনীয় তি হয়ে যাবে। শরণখোলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য হালিম শাহ বলেণ, সোমবার বিকেল থেকেই আমরা স্থানীয়দের সতর্ক করে মাইকিং শুরু করেছি। এলাকার বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের আশ্রয়শ্রেন্দ্র নেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন। যেকোন পরিস্থিতিতে তারা মানুষের পাশে থাকবে। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের নিকটতম আশার আলো মসজিদ কাম সাইকোন শেল্টারে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। ওই এলাকার মানুষদের জন্য আশপাশের সুবিধাজনক ঘূর্নিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র গুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাহিদুজ্জামান খান বপ্রণ, সম্প্রতি ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে আমরা রিং বেড়িবাঁধ দিয়েছি।আম্পানে যদি আবারও ওই স্থান তিগ্রস্থ হয়, তাৎণিকভাবে মেরামতের জন্য আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।





