ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ, প্রস্তুতি গ্রহণ

0

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট) ॥ ঘূর্ণিঝড় আ¤পানের কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দরকে সোমবার বিকেল থেকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর ও সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী উত্তাল থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে প্রচন্ড গরম ও তীব্র তাপদাহ অবস্থা বিরাজ করেছে মোংলা ও সুন্দরবনসহ আশপাশ উপকূলীয় এলাকাজুড়ে। তবে দুপুরের পর থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে সংকেত বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে মোংলা বন্দরে পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ বন্দরে বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘এলার্ট-৩’ জারি করেছে। মোংলা বন্দরে কয়লা ও কিংকারবাহীসহ মোট ১১টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে জরুরি কন্ট্রোল রুম খুলেছে বন্দর কর্তৃৃপক্ষ। সম্ভাব্য ঝড় মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, সংকেত বাড়ার সাথে সাথে জাহাজের পাশে থাকা সব লাইটার জাহাজ ও অন্যান্য নৌযান নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অপরদিকে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে পৃথক কন্ট্রোল রুম। উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ১০৩টি সাইকোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ সাইকোন শেল্টারগুলোকে ঝাড়– দিয়ে ছেড়ে ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সিপিবিসহ স্বেচ্ছাসেবক দল ও প্রশাসনের সদস্যদেরকেও। এ ছাড়া মাইকিং করে জনসাধারণকে সাইকোন শেল্টারে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সিগনাল বেড়ে ৮ নম্বরে আসলে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে শুরু করবে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষও পৃথক কন্ট্রোল রুম খুলে জনসাধারণকে মাইকিং করে সতর্ক থাকতে বলছে।
এদিকে মঙ্গলবার দিনে নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুপুরের পর থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। অপরদিকে বন্দর কেন্দ্রিক চলাচলরত বিভিন্ন নৌযান ও সুন্দরবন সংলগ্ন সাগর নদীতে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা নিরাপদ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। মোংলা নদীর পূর্ব পাড়ে কয়েকশ’ ট্যুরিস্ট বোট নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া জাহাজের পাশের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পশুর নদীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকশ’ কার্গো জাহাজ ও আশপাশের বিভিন্ন খালে বিভিন্ন নৌযান নিরাপদে নোঙ্গর করে রয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, বনের গহীনে সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়িতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দুর্যোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুস্কৃতিকারীরা যাতে হরিণসহ অন্যান্য বন্য প্রাণী ও বনজ সম্পদ ধ্বংস করতে না পারে সে জন্য বনকর্মীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।