স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিপুল সংখ্যক সহায় সম্বলহারা দুস্থ অসহায় মানুষকে বাদ দিয়েই চূড়ান্ত হলো যশোরে ১০ টাকার চালের বিশেষ ওএমএস কার্ডের তালিকা। এই কার্ডের বেশিরভাগই পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যশোরের আটটি পৌরসভায় ১০ টাকা চালের বিশেষ ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ২৪ হাজার ৬শ’ কার্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এগুলো হচ্ছে- যশোর পৌরসভায় ৯৬০০টি, কেশবপুরে ২৪০০টি, মনিরামপুরে ২৪০০টি, অভয়নগরে ২৪০০টি, বেনাপোলে ২৪০০টি, চৌগাছায় ১৮০০টি, ঝিকরগাছায় ১৮০০টি ও বাঘারপাড়ায় ১৮০০টি। পৌরসভার মেয়রদের মাধ্যমে এই তালিকা করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ টাকার চালের রেশন কার্ডের জন্যে যে তালিকা করা হয়েছে তা সাধারণ মানুষ জানেন না। কোথায় কীভাবে তালিকা করা হয়েছে তা প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষ টেরই পাননি। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় লোকজনকে এই তালিকাভুক্ত করেছে। যশোর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর জানিয়েছেন, তার ওয়ার্ডে ৪শ’ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু তিনি পেয়েছেন মাত্র ১শ’ কার্ড। বাকি ৩শ’ কার্ড দলীয় নেতাদের মাধ্যমে করা হয়েছে। অবশ্য মেয়র জহিরুল ইললাম চাকলাদার রেন্টু ও পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেছেন, প্রকৃত দরিদ্রদের বাছাই করার জন্যে স্থানীয় কাউন্সিলর ও নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে তালিকা করা হয়েছে। এভাবে স্বচ্ছতা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এটাও সত্য, সকল মানুষকে সহায়তা দেয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলী বলেছেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের বিশেষ ওএমএস কার্ডের তালিকা করেছেন মেয়ররা। এতে কোন অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই।




