বিএম আসাদ ॥ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে গতকাল সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক বয়স্ক নারীর মৃত্যু হয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসার আগেই জাহানারা বেগম (৬০) নামে ওই নারীর মৃত্যু হলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্কতার সাথে দাফন করার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, গতকাল খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে ২৬টি নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট যশোর সিভিল সার্জন অফিসে এসেছে। এসব নমুনার সবই নেগেটিভ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো.আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, গতকাল সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে জাহানারা বেগম (৬০) নামে এক বয়স্ক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস আলী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাহানারা বেগম শার্শা উপজেলার শিয়ালকোনা গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথমে জাহানারা বেগম হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর গত ১৬ মে তাকে হাসপাতালের মহিলা পেয়িং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ দেখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে করোনায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করেন। এরপর ১৭ মে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে জাহানারা বেগমকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওইদিন তার দেহ থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফল এখনো হাসপাতালে এসে পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে এসে তার করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে না বাইরে থেকে উপসর্গ দেখা দেয়। এ সম্পর্কে নিশ্চিত নন আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদ। হাসপাতালে মারা যাওয়ার পর পরই স্বজনরা দাফনের জন্য তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। জাহানারা বেগমের দাফনের ব্যাপারে কোন পদ্ধতি আছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে আরএমও ডা. মো. আরিফ আহমেদ বলেন, সামাজিক কায়দায় তার দাফন হবে। তবে সতর্কতার সাথে তাকে দাফন করার জন্য পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। এদিকে, গতকাল যশোরে ২৬টি করোনা পরীক্ষার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে এসেছে। এর ভেতর ২৫টি নতুন এবং ১টি ফলোআপ পরীক্ষার রিপোর্ট। খুলনা মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগার থেকে রিপোর্টগুলো পাঠানো হয়। এর ভেতর সবগুলো রিপোর্টই নেগেটিভ বা করোনামুক্ত বলে সিভিল সার্জন অফিসের এমওসিএস ডা. মো. রেহনেওয়াজ জানিয়েছেন। এছাড়া পরীক্ষার জন্য গতকাল ৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ভেতর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ ৩৩টি নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।





