পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে দাঁড়ান

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেেিত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। সীমিতভাবে কিছু পণ্যবাহী গাড়ি চলছে মাত্র। ট্রেন-লঞ্চ চলছে না, বিভিন্ন রুটে বাসও চলছে না। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর অভ্যন্তরীণ বাস সার্ভিসগুলোও চলছে না। চলছে না আন্ত জেলা, আন্ত উপজেলা বাস সার্ভিসও। বেকার বসে আছেন পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু বেকার থাকলেও দানাপানির ব্যবস্থা করা তাঁদের সবারই প্রয়োজন। কোথা থেকে হবে সেই ব্যবস্থা! তাঁদের বেশির ভাগের দিন আনি দিন খাই অবস্থা। মাঝখানে একবার তাঁরা তাঁদেরই শ্রমিক সংগঠনের তহবিল থেকে তাঁদেরই জমানো টাকা চেয়ে আন্দোলন করেছিলেন, সেখান থেকেও টাকার সংস্থান হয়নি। মালিক-শ্রমিক নেতা কেউ পাশে দাঁড়াননি। তাঁদের সংসার অচলপ্রায়। ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে।
কয়েক দিন পর ঈদুল ফিতর। অন্যান্য বছর এই সময়ে ঈদ উপলে বাড়তি শ্রম ও সময় দিয়ে বেশি আয়ের প্রস্তুতি নিতেন পরিবহন শ্রমিকরা। এবার সে প্রস্তুতি নেই। কারণ এখন লকডাউন চলছে। কিছু েেত্র লকডাউন কিছু শিথিল হয়েছে বটে; কিন্তু পরিবহন খাতে এটা বহাল থাকছে ৩০ মে পর্যন্ত। অবস্থা এমন হয়েছে যে ঈদের আনন্দ দূরে থাক, দিন পার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। বেঁচেবর্তে থাকার তাগিদে তাঁদের একাংশ বেছে নিয়েছে ভিন্ন পেশা। কোনো ধরনের সরকারি সহায়তাও তারা এখনো পায়নি। ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণার পরই সরকার দিনমজুরদের জন্য ৭৬০ কোটি টাকার সহায়তা ঘোষণা করে। পরিবহন খাতের মালিক, শ্রমিক নেতাসহ সাধারণ শ্রমিকরা বলেছেন, সরকারের এই সহায়তা পরিবহন শ্রমিকরা পাচ্ছেন না। কিভাবে সরকারি সহায়তার তালিকা করা হচ্ছে, তা-ও তাঁরা জানেন না। তাঁদের খুবই দুর্দিন। সংসার চলছে না বলে দূরপাল্লার বাস চালুর দাবিতে তাঁরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আন্দোলন করছেন। বেশ কিছু স্থানে ত্রাণের দাবিতে কর্মসূচিও পালন করেছেন তাঁরা। পরিবহন খাতে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার চাঁদার একটি অংশ যায় পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে। সে তহবিল থেকেও সহায়তা পাচ্ছেন না তাঁরা। পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ নিরানন্দ হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি চলে না বলে মালিকরা তাঁদের বেতন দিচ্ছেন না। নিজেদের সংস্থানও তেমন নেই। তাঁরা সহায়তার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন। সরকারপ্রধান তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন, আশা করি।