সুসংবাদের বার্তাবহ আলবিদা রমজান

মহিউদ্দীন মোহাম্মদ ॥ আজ ২৫ রমজান। আর মাত্র ৪ বা ৫দিন বাদেই ঈদুল ফিতর। ঈদ উৎসবে অংশ নিতে সমগ্র জাতি এখন উন্মুখ। বাকি ক’টি সিয়াম পালনে সর্বাত্মকভাবে প্রত্যেকে সামিল। সিয়াম একটি ফরজ ইবাদত। এ থেকে কারো বঞ্চিত থাকা উচিত নয়। আজকের কলামে আমরা একটু ব্যতিক্রমি বিষয়ে দৃকপাত করব। আর সেটি হচ্ছে, গত হয়ে যাওয়া অভিভাবকের সিয়াম সম্পর্কে। আয়েশা [রা.] থেকে বর্ণিত, রাসূল [সা.] বলেছেন, যে মারা গেল, অথচ তার সিয়াম রয়েছে, তার অভিভাবক তার প থেকে সওম রাখবে।
ইব্
বুখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, জনৈক নারী নবী [সা.] এর নিকট এসে বলল, হে রাসূল, আমার মা মারা গেছে, তার উপর মান্নতের সওম রয়েছে, আমি কি তার প থেকে সওম রাখব? তিনি বললেন, তুমি কি মনে কর, তোমার মার ওপর যদি ঋণ থাকে, আর তুমি তা আদায় কর, তাহলে কি যথেষ্ট হবে? সে বলল, হ্যাঁ, তিনি বললেন, তোমার মায়ের প থেকে তুমি সওম রাখ।
বুরাইদা [রা.] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলের [সা.] এর নিকট বসে ছিলাম, ইত্যবসরে তার নিকট এক নারী এসে বলল, আমি আমার মাকে এক ‘দাসী’ সদকা করেছি, কিন্তু সে মারা গেছে।
বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল [সা.] বলেছেন, তোমার সওয়াব হয়ে গেছে, তুমি তা মিরাস হিসেবে ফিরিয়ে নাও। সে বলল, হে রাসূল, তার জিম্মায় একমাসের সওম ছিল, আমি কি তার প থেকে সওম রাখব? তিনি বললেন, তার প থেকে সওম রাখ। সে বলল, তিনি
শিা ও মাসায়েল:
এক. শারীরিক ইবাদতে প্রতিনিধিত্ব হয় না এটাই মূলনীতি, তবে সিয়াম এ নীতির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন নয় হজ। হাফেয ইবন আব্দুল বার রহ. বলেছেন,সালাতের ব্যাপারে সবাই একমত যে, কেউ কারো প থেকে সালাত আদায় করবে না, না ফরয, না সুন্নত, না নফল, না জীবিত ব্যক্তির প থেকে, না মৃত ব্যক্তির। অনুরূপ জীবিত ব্যক্তির প থেকে সিয়াম, জীবিতাবস্থায় একের সওম অপরের প থেকে আদায় হবেনা। এতে ইজমা রয়েছে, কারো দ্বিমত নেই। কিন্তু যে মারা যায়, তার জিম্মায় যদি সিয়াম থাকে, তার ব্যাপারে পূর্বাপর আলেমদের ইখতিলাফ রয়েছে।
দুই. মৃত ব্যক্তির জিম্মায় যদি সিয়াম থাকে, তার দুই অবস্থা, (১). কাযার সুযোগ না পেয়ে মারা যাওয়া, সময়ের সংকীর্ণতা, অথবা অসুস্থতা, অথবা সফর, অথবা সওমের অমতার দরুণ কাযার সুযোগ পায়নি, অধিকাংশ আলেমদের মতে তার উপর কিছু নেই।
(২) কাযার সুযোগ পেয়ে মারা যাওয়া, এ েেত্র সুন্নাত হচ্ছে তার তিন. মৃত ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করা বৈধ, আত্মীয়-স্বজন বা অন্য কারো প থেকে। হাদিসে বর্ণিত, সওয়ামা আনহু ওয়া আদ্দাহু অর্থ হচ্ছে ওয়ারিশ ও উত্তরসূরি, অধিকাংশ েেত্র এমন হয়, অন্যথায় তার প থেকে তার নিকট আত্মীয়, অথবা দূরের কারো সিয়াম পালন করা বৈধ, ঋণ আদায়ের ন্যায়। শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ রহ. বলেছেন, নবী [সা.] তা ঋণের সাথে তুলনা করেছেন, ঋণ যে কেউ কাযা করতে পারে, অতএব প্রমাণিত হয় যে, এটা যে কারো প থেকে করা বৈধ, শুধু সন্তানের সাথে খাস নয়।
চার. মৃত্যু ব্যক্তির মানত কাযা করা ওয়াজিব নয়, যেমন নয় অভিভাবকদের উপর তার ঋণ পরিশোধ করা, তবে এটা মৃত ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করার জন্য তাদের প থেকে অনুগ্রহ।
পাঁচ. মৃতের জিম্মায় যদি অনেক সিয়াম থাকে, সে সংখ্যানুসারে তার প থেকে কতক লোক যদি একদিন সিয়াম পালন করে, তাহলে শুদ্ধ হবে, তবে যে সওমে ধারাবাহিকতা জরুরী তা ব্যতীত, যেমন যিহার ও হত্যার কাফফারা, এ েেত্র একজন ধারাবাহিকভাবে সিয়াম পালন করবে।
ছয়. যদি তার প থেকে কেউ সিয়াম পালন না করে, তবে তার অভিভাবকগণ তার প থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দিবে, তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে দেয়া বৈধ।
সাত. ওয়ারিশগণ যদি কাউকে সওমের জন্য ভাড়া করে, তাহলে শুদ্ধ হবে না, কারণ নেকির বিষয়ে ভাড়া করা বৈধ নয়।
আট. যদি মানত করে মুহাররাম মাসে সিয়াম পালন করবে, অতঃপর সে যিলহজ মাসে মারা যায়, তার প থেকে কাযা করা হবে না, কারণ সে ওয়াজিব হওয়ার সময় পায়নি, যেমন কেউ মারা গেল রমযানের পূর্বে।
নয়. যার ওপর রমজানের কতক দিনের সিয়াম ওয়াজিব, সে যদি তার নিকট আত্মীয়ের কাযা অথবা কাফফারা অথবা মান্নতের সওম পালন করতে চায়, তার উপর ওয়াজিব আগে নিজের সওম পালন করা, অতঃপর তার নিকট আত্মীয়ের সওম পালন করা।
দশ. বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাযা সওমে ধারাবাহিকতা শর্ত নয়, তবে ধারাবাহিকভাবে কাযা করা উত্তম, কারণ তার সাথে বিস্তারিত জানতে পড়া যেতে পারে ইবরাহিম ইব এর বাংলা অনুদিত কিতাব রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদিস : শিা ও মাসায়েল

ভাগ