চৌগাছার বাড়িয়ালী গ্রামের তিন ব্যক্তির বয়স সত্তর ছাড়িয়েছে তবুও কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা (যশোর) ॥ বয়সের ভারে এখন আর সে ভাবে চলা ফেরা করতে পারেনা। ছেলেদের অভাবের সংসারে তাই যেন বোঝা হয়ে উঠেছেন। এ সব কিছুই দেখেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা, তারপরও এই বৃদ্ধ বয়সে তাদেরকে দেয়া হয়নি সরকারী কোন সুুযোগ সুবিধা। অথচ ৪৫/৫০ বছরের ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন সরকারী চাল কিংবা টাকা। বয়োবৃদ্ধ এই তিনজনেরই বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়িয়ালী গ্রামে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের প্রশ্ন আর কত বয়স হলে তারা সরকারী সুযোগ পাবে ?
আবু তালেব (৯৫), জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯২৫ সালের ১ জানুয়ারী, নওশের আলীর (৮৬) জন্মতারিখ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৩৪ আর সামছুন্নাহার (৭১) জন্মতারিখ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৯। তবে পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, তাদের সবারই প্রকৃত বয়স আরো বেশি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই তিন ব্যক্তিই বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও এ পর্যন্ত পাননি সরকারি কোনো সহযোগিতা।
সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ভাতা পাওয়ার যোগ্য তারা সকলেই ভাতা পাই, তবে উল্লেখিত তিনজন কেন ভাতা পাননা এটা আমার জানা নেই। গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেম্বর মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল টাকা ছাড়া কিছুই চেনে না। বয়স্ক ভাতার কার্ড করতে মাথা পিছু ২ হাজার টাকা করে না দিলে তিনি কারো কার্ড করে দেন না। এই অভিযোগও তিনি (মেম্বর) অস্বিকার করে বলেন, এটি সত্য নই, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বৃদ্ধ আবু তালেবের ছেলে স্থানীয় বাজারে চা-বিক্রেতা মইনুল ইসলাম জানান, তার পিতা গ্রামের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন। এখন বৃদ্ধ বয়সে তিনি অনেকটাই অস্বাভাবিক হয়ে গেছেন। সামান্য চা বিক্রি করে কোন রকম সংসার চালায়। এই বৃদ্ধ বয়সে আমার পিতা সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা।
বৃদ্ধ নওশের আলী ও সামছুন্নাহার স্বামী-স্ত্রী। তারা গ্রামের অসচ্ছল পরিবার। তার দুই ছেলে ঢাকা শহরে থ্রি-হুইলার চালাতেন। করোনা ভাইরাসের আগে বাড়ি এসে বেকার বসে আছেন। নওশের আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন. ঢাকাতে নিজেরা কোনভাবে চলতাম। করোনা ভাইরাসের আগে ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছিলাম, আর যেতে পারিনি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা কোন সরকারি সুবিধা পাননা বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অবাইদুল ইসলাম সবুজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই তিন ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি, এটা আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক ভাতাসহ সরকারী সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তারা, তারপরও কেন কার্ড হয়নি সেটি দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তাদের বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে তিনি জানিয়েছেন।