এমপিওবহির্ভুত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান

0

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়েপড়া করোনাভাইরাস ভয়ঙ্কর আঘাত হানছে অর্থনীতিতে। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বমন্দাকে ছাড়িয়ে গেছে এর প্রভাব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী শেয়ার বাজারে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কমছে জ্বালানি তেলের দামও। করোনাভাইরাসের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হলেও ঘটছে উল্টোটা। করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে দুই শতাধিক দেশে। বিশ্বব্যাপী মহামারী রূপ নেয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যে অবস্থা চলছে তা দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশকে এর অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে, বিশেষ করে কাঁচামালের অভাবে অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক নতুন ফ্যাক্টরি চালু করা সম্ভব হবে না। তবে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে কিছু পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। যাদের কর্মক্ষেত্র আজও খোলা হয়নি এবং তারা কোনো প্রণোদনা পাননি। ঢাকার একটি দৈনিক লিখেছে- দীর্ঘ সময়ের লকডাউনের কারণে অনেকেরই অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার কিংবা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত শিকসমাজ, বিশেষ করে বেসরকারি বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ শিক। সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিাপ্রতিষ্ঠানের শিক-কর্মচারীরা মাসিক বেতন-ভাতা পেলেও কিছুই পাচ্ছেন না নন-এমপিও শিাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন বা বিভিন্ন কারিগরি শিাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক-কর্মচারী। নন-এমপিও শিাপ্রতিষ্ঠান বা কিন্ডারগার্টেনের শিকরা বেতন পান খুবই সামান্য অথবা কিছুই পান না। তাঁদের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে প্রাইভেট টিউশনি। বর্তমানে সেই টিউশনিও বন্ধ রয়েছে। তাঁরা পড়েছেন এক মহাসংকটে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হওয়ায় গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিাপ্রতিষ্ঠান। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বেসরকারি শিাপ্রতিষ্ঠানের ১০ লাখের মতো শিক-কর্মচারী। অন্য সময় স্কুলের সামান্য বেতন ও টিউশনির অর্থ দিয়ে এই শিকদের সংসার চলত। এখন স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রদের মাসিক বেতন বা অন্যান্য ফি আদায় হচ্ছে না বললেই চলে। ফলে বেশির ভাগ স্কুল থেকেই শিকদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। টিউশনিও বন্ধ। এই শিকরা এখন কী করবেন? একই অবস্থা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে। প্রায় ছয় লাখ শিক এসব কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত। এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগই নির্ভরশীল শিার্থীদের টিউশন ফির ওপর। এখন সে টিউশন ফি আদায় হচ্ছে না। ফলে শিকদের বেতনও হচ্ছে না। শুধু তা-ই নয়, বেশির ভাগ কিন্ডারগার্টেন চলে ভাড়া করা বাড়িতে। অনেক প্রতিষ্ঠান বাড়িভাড়াও দিতে পারছে না। এ অবস্থা কয়েক মাস স্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। এখানেও একই সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা টিউশন ফি দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে প্রধান কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই শিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না।
শিাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের শিাব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই দ্রুত শিক-কর্মচারীদের রায় কার্যকর পদপে নিতে হবে। একই সঙ্গে শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও রা করতে হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করবো, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য জরুরি বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে। একইভাবে অন্য সব মন্ত্রণালয় তাদের আওতাধীন বন্ধ সব প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করবে।