শামসুর রহমান লালটু, কাজীরহাট (সাতক্ষীরা) ॥ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গৃহবন্দি মানুষের মাঝে অতিরিক্ত কাজের চাপ না থাকায় কলারোয়ায় বাড়ির আঙিনায় বেড়েছে শাক-সবজির চাষ। শুধু বাড়ির আঙিনায় নয় মাঠ-ঘাটেও উৎসাহের সাথে কাজ করছেন চাষি নয় এমন পেশার মানুষজনও।
মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। অনেক পেশাজীবী মানুষ ঘর বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ঘরবন্দি বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের কর্মস্থলে যেতে না পারায় বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জমিতে চাষাবাদে আতœনিয়োগ করেছেন। উপজেলার পৌর সদরের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুল ইসলাম বাড়ির পাশে ও আঙিনায় বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষ করে সময় কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে আসাদুল ইসলাম’র চাষকৃত সবজি ক্ষেতে দেখা যায়,যে সময় ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতেন সেই সময়ই তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন আঙিনায় চাষকৃত শাক-সবজির বাগান পরিচর্যায়। তিনি বসত বাড়ির আঙিনা ও পাশের জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজির চাষ করেছেন। সবজি ক্ষেত তিনি নিজেই পরিচর্যা করেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তাঁরই স্ত্রী কে,কে,ই,পি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা তাজুয়ারা বেগম। তাদের আঙিনায় উৎপাদিত শাক-সবজি পরিবারের পুষ্টি চাহিদায় সহায়তা করছে। আসাদুল ইসলাম’র চাষকৃত শাক-সবজির মধ্যে রয়েছে বেগুন, কাঁচা মরিচ, ঢেড়শ, শশা, মানকচু, ডাটা শাক, লালশাক, লাউ, কুমড়া, উচ্ছে, পুঁইশাক সহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাসিন আলী জানান, উপজেলায় এ ধরনের আগ্রহী চাষিদের চিহ্নিত করে তাদের মাঝে উন্নত জাতের শাক-সবজির বীজ,সার সরবাহ করে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয়ের কর্মসংস্থান করা যায়। তাছাড়া পুষ্টির দিক থেকে বাড়ির আঙিনায় উৎপাদিত শাক-সবজি উন্নত মান সম্পন্ন হয়। ফলে বছরব্যাপী বাড়ির আঙিনায় উৎপাদিত শাক-সবজি খেয়ে পুষ্টিহীনতাও দুর করা সম্ভব।





