মনিরামপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে মনগড়া বিল তৈরিসহ নানা অভিযোগ

এস এম মজনুর রহমান, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মনিরামপুর) এর বিরুদ্ধে মার্চ ও এপ্রিল মাসে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার ওপর মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে আগামী ১৬ মে তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধের তাগিদ দিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এই তারিখের পর থেকে গ্রাহকদের জরিমানা গুনতে হবে। অন্যদিকে অধিকাংশ ব্যাংকসমূহ বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে সমিতির সদর দপ্তরে প্রচন্ড গরমের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে দীর্ঘ লাইন দিয়ে গ্রাহকরা বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সদর দপ্তর অবস্থিত মনিরামপুরে। এ সমিতির আওতায় রয়েছে যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, খুলনার ফুলতলা, নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলা। সমিতির মোট গ্রাহক রয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৪৮৪ জন। বর্তমান মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের ঘোষনা রয়েছে জরিমানা মওকুফের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে সমিতি কর্তৃপক্ষ গত দু’মাস মার্চ ও এপ্রিলে গ্রাহকদের মিটার রিডিং না করে অফিসে বসেই মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরি করার। তার ওপর হঠাৎ করেই সমিতির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে আগামী ১৬ মে তারিখের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের। অন্যথায় গ্রাহকদের জরিমানা গুনতে হবে। অন্যদিকে ছুটিসহ করোনার দোহায় দিয়ে অধিকাংশ ব্যাংকসমূহ বিল নেয়া থেকে বিরত রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই গ্রাহকরা সমিতির সদর দপ্তরে প্রচন্ড গরম এবং ভীড়ের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। যে কারণে গ্রাহকদের মধ্যে প্রচন্ড অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সরেজমিন সদর দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, সমিতির ক্যাশ কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। এ সময় কথা হয় গোপালপুর থেকে আসা হাফিজুর রহমান নামে একজন গ্রাহকের সাথে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিল হয়েছিল চার’শ টাকা। অথচ মার্চ মাসে তার বিল করা হয়েছে এক হাজার এক’শ টাকা। তার ওপর এপ্রিল মাসে তার বিল করা এক হাজার দু’শ টাকা। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ তার মিটারের কোন রিডিং না করেই অফিসে বসে মনগড়া বিল তৈরি করে বাড়িতে পাঠিয়েছেন। একই অভিযোগ করেন পৌরশহরের লায়লা আনজুমান বানু নামে অপর একজন গ্রাহক। তিনি জানান, মার্চ মাসে তার বিল করা হয়েছে সাত’শ টাকা। অথচ এপ্রিল মাসে বিল করা হয়েছে এক হাজার আট’শ টাকা। এ অভিযোগ শুধু হাফিজুর রহমান অথবা লায়লা আনজুমানের নয়, একই অভিযোগ মশিয়ার রহমান, জামাল উদ্দিন, শাহিনুর রহমান, জালাল উদ্দিন, বিজয় কুমার, সুকুমার কুন্ডু, নার্গিস পারভীনসহ অধিকাংশ গ্রাহকের। তার ওপর সমিতির অনুমোদিত জনতা, রূপালী, পূবালী, অগ্রণীসহ অধিকাংশ ব্যাংক করোনার দোহায় দিয়ে বিল জমা না নিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে সদর দপ্তরে প্রচন্ড গরমের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। তবে এ সময় সমিতির জেনারেল ম্যানেজার অরুন কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্টরা গ্রাহকদের সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করতে বেশ তৎপরতায় থাকতে দেখা যায়। এ সময় গ্রাহকদের বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে কথা হয় জেনারেল ম্যানেজার অরুন কুমার কুন্ডুর সাথে। তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিং করা সম্ভব হয়নি। ফলে গত বছর মার্চ এবং এপ্রিল মাসের রিডিং অনুযায়ী এ বছর মার্চ-এপ্রিলে বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমান বিলে যে গরমিল আছে তা আগামী মাসে সমন্বয় করা হবে। অপরদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকাংশ মিটার রিডারদের অভিযোগ করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উপকরণ ছাড়াই তারা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তবে জেনারেল ম্যানেজার ব্যাংকসমূহ বিল না নিয়ে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেবার অভিযোগ স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও মিটার রিডারদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা ভেবে মাক্স ও স্যাভলন সরবরাহ করা হয়েছে।

ভাগ