হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে চোরা শিকারীর দল

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট ॥ করোনা পরিস্থিতিতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। যানবাহনে মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করায় পরিবেশে দূষণের হার কমেছে অনেক। লকডাউনের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনেও পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বনের অতন্দ্র প্রহরী বনরক্ষীরাও কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছেন। এই সুযোগে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় হরিণ শিকারে মেতে উঠেছে অসাধু চোরা শিকারীরা। হরিণ শিকারের জন্য সব সময় চোরা শিকারীরা তৎপর থাকলেও লকডাউনের পর থেকে আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৯ মার্চ থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন বিভাগ। এই আদেশের পরে বনরক্ষীরা কিছুটা ঢিমেতালে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এই সুযোগে চোরা শিকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে হরিণ শিকারে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ১২ মে পর্যন্ত বনবিভাগ, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০০ কেজি হরিণের মাংস জব্দ করা হয়। এর সাথে ১ হাজার ৯৫০ ফুট ফাঁদ, কয়েকটি নৌকা ও ট্রলার জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। হরিণ শিকারের অপরাধে ৬জন চোরা শিকারীকে আটক করা হয়।
৫মে সর্বশেষ ৩০কেজি হরিণের মাংস ও ৭শ’ ফুট ফাঁদসহ তিনজনকে আটক করে বন বিভাগ। ওই সময় শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদে আটক ২২টি হরিণ বনে অবমুক্তকরে বনরক্ষীরা। পূর্ব সুন্দরবন বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে গত এক বছরে ২৩১ কেজি হরিণের মাংস, ১০টি চামড়া, ৩টি মাথা জব্দ করে। আটক করা হয় ২৫ জন হরিণ শিকারীকে। এসময় চোর শিকারীদের ব্যবহৃত ১০ টি ট্রলার,২৫ নৌকা ও ৫হাজার ফুটের অধিক হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করে বনবিভাগ। এসব ঘটনায় করা মামলার ৬৭জন আসামি পলাতক রয়েছে। পূর্বসুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদবেলায়েত হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যার ফলে সুন্দরবন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হরিণ শিকারীরা মনে করেছিল করোনা পরিস্থিতির কারণে বনবিভাগ নজরদারি ও টহল কমিয়েছে। এই চিন্তায় কিছু হরিণ শিকারী বনে প্রবেশ করেছিল। আমরা তাদেরকে যথাসময়ে আটক করেছি। কিছু হরিণ শিকারীরা জবাই করেছে। আমরা সব সসময় টহল জোরদার রেখেছি। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার্থে বনবিভাগের সদস্যরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভাগ