স্টাফ রিপোর্টার ॥ দাবিকৃত ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে যশোর শহরের ঘোপ জেলরোড বেলতলা এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি চক্র এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলাও হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সানোয়ার হোসেনকে গত বুধবার আটক করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সে ঘোপ কবরস্থান রোড এলাকার মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে।
শহরের ঘোপ জেলরোড বেলতলা এলাকার মৃত আলমের ছেলে আকবর হোসেনের অভিযোগ, তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। বর্তমানে করোনা সংক্রান্ত দুর্যোগের কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে এলাকার গরীব মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে আসছেন। এ বিষয়টি ঘোপ কবরস্থান রোডের সানোয়ার হোসেনসহ তার সহযোগীদের নজরে পড়ে যায়। এক পর্যায়ে সানোয়ার গং তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। গত ৯ মে দুপুর একটার দিকে সানোয়ারের নেতৃত্বে চাঁদাবাজরা আগ্নেয়াস্ত্র এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। কিন্তু তিনি এ সময় বাড়িতে ছিলেন না। চাঁদাবাজরা তাকে না পেয়ে গালিগালাজ করতে থাকে। ফলে তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা তুলি তাদেরকে গালি দিতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এবং চাঁদা না পেয়ে তারা ঘরে ঢুকে আলমারিসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তারা আলমারিতে রাখা নগদ ৩৫ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রীর গলা থেকে একটি সোনার চেইন নিয়ে যায়। পরে চলে যাওয়ার পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলিবর্ষণও করে।
উপশহর ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এইচএমএ লতিফ জানান, ওই ঘটনায় আকবর হোসেন ৯ জনকে আসামি করে গত বুধবার কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। এ মামলার প্রধান আসামি সানোয়াকে মামলা দায়েরের পর ওইদিন রাতে আটক করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সানোয়ার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা থানায় মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই মামলার এজাজারভুক্ত অপর আসামিরা হচ্ছে-ঘোপ বউবাজার এলাকার নুর আলম, আরিফ, রানা, রাসেল, সাব্বির ও নুরুন্নবী এবং ঘোপ কবরস্থান পাড়ার শাওন ও ইমন।





