স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় কতিপয় যুবকের হাতে প্রহৃত হয়েছেন। গত বুধবার সকালে যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদ্বয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে ওই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে দু’যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন-বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা ক্যাম্পে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফজলুল হক ও মো. লিয়াকত হোসেন।
উপশহর ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই এইচএমএ লতিফ জানান, খাজুরা ক্যাম্পে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফজলুল হক ও লিয়াকত হোসেন পুলিশ লাইন্স থেকে সরকারি রেশন উত্তোলনের জন্য গত বুধবার সকালে যশোরে আসছিলেন। লকডাউনের কারণে অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা যশোরমুখি একটি কাভার্ডভ্যানে (ঢাকা মেট্রো-অ-১১-৩৮২৬) করে রওনা হন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের বাহাদুরপুর বাঁশতলা নামক স্থানে পৌঁছালে বেপরোয়া গতিতে রং সাইড দিয়ে আসা একটি ইজিবাইকের সাথে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা লাগে। এতে ইজিবাইকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ইজিবাইকের চালকসহ স্থানীয় কতিপয় যুবক ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করেন। কিন্তু কাভার্ডভ্যানে থাকা পুলিশ সদস্য ফজলুল হক ও লিয়াকত হোসেন গাড়ি থেকে নেমে নিজেদের পরিচয় দিয়ে যুবকদের জানান এ ঘটনার জন্য ইজিবাইকচালক দায়ী। ফলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাহাদুরপুরের শফিজুল ইসলাম ওরফে বাদশার ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে রফিকুল ইসলাম এবং মৃত হেকমত আলীর ছেলে শাহাজান হোসেন আজাদ ও রাহাজান হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন যুবক তাদের ওপর চড়াও হন। তারা লাঠিসোটা দিয়ে তাদের মারধর করেন। এতে পুলিশ সদস্য ফজলুল হক ও লিয়াকত হোসেন আহত হন। পরে তারা যশোরে এসে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য ফজলুল হক উল্লিখিত ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতানামা আরো ৫/৭ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন। তিনি জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাহাজান হোসেনকে গত বুধবার রাতে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে মারুফ হোসেন নামে আরো এক যুবককে তারা আটক করেছেন। মারুফ হোসেন বাহাদুরপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে। বৃহস্পতিবার আটক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।





