যশোরে আড়তদাররা হুমকিদাতা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিল

শেখ আব্দুলাহ হুসাইন ॥ যশোর বড়বাজার মাছ বাজারে আড়তদারদের ওপর চড়াও হওয়া খুচরা মাছ বিক্রেতাদের বিষয়ে করণীয নিয়ে সভা করেছেন আড়তদাররা। বৃহস্পতিবার সকালে মাছ বাজারে আড়তদারদের সভায় বাজারে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে ওই খুচরা বিক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর আড়তদারদের টাকা পরিশোধের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে খুচরা মাছ ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বড়বাজারের মাছ বাজার টাউন হল মাঠে স্থানান্তর করা হয় গত ৩০ এপ্রিল। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সিদ্ধান্তে পরবতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে এ বাজার বসানো হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে টাউন হল মাঠে রোদ ও বৃষ্টিতে মাঠ কাদাময় হয়ে যায় অজুহাতে মাছ বিক্রেতারা গত ১১ মে থেকে বেঁচাকেনা বন্ধ করে দেয়।
টাউন হল মাঠে খুচরা মাছ বিক্রির ব্যবস্থা হলেও পাইকারি বিক্রির আড়তগুলো বড়বাজার মাছ বাজারে থেকে যায়। মাছ বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতারা প্রতিদিন সকালে মাছ কিনে টাউন হল মাঠে বিক্রি করে আসছিল। শুধু এখানকার খুচরা বিক্রেতা নয়, যশোরের বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা বিক্রেতারা এই মাছ বাজার থেকে পাইকারি দরে মাছ কিনে তাদের পছন্দমত জায়গায় খুচরা বিক্রি করে থাকে। টাউন হল মাঠে যারা খুচরা মাছ বিক্রি করছিলেন তারা সবাই স্থানীয় মাছ বাজার এলাকার আশেপাশের বাসিন্দা। টাউন হল মাঠে খুচরা বিক্রেতারা মাছ আর বিক্রি করতে চাচ্ছে না বলে তারা মাছ বাজারে আড়তদারদের ওপর পাইকারি মাছ বিক্রি না করার জন্য চাপ দেয়। আড়তে মাছ বিক্রি অব্যাহত থাকলে বুধবার শহরের খালধার রোডের পাশে নিকারিপাড়ার খুচরা মাছ বিক্রেতারা আড়তদারদের ওপর চড়াও হয়। তারা জনি, সাদ্দাম, আজগর, জাকির ও কালুর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন দলবদ্ধ হয়ে মাছ বাজারে অবস্থিত ‘কুয়াকাটা ফিশ’ এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী নুর আলমকে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাকে মারতে উদ্যত হয়। এদিকে নুর আলম বুধবার কোতয়ালি থানায় জিডি করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে বলা হয় পরের দিন আসতে। জানা গেছে নুর আলম বৃহস্পতিবারও থানায় জিডি করেননি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাছ ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, একটি মহল নুর আলমকে জিডি করতে নিবৃত্ত করেছে। ফলে চাপের মুখে তিনি জিডি করেননি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে মাছ বাজারের আড়তদাররা তাদের কার্যালয়ে সভার আয়োজন করে। বড়বাজার মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির আহ্বায়ক সমমনা ফিশের স্বত্বাধিকারী জাকির বিশ^াসের সভাপতিত্বে অন্তত ৩৫ জন আড়তদার সভায় উপস্থিত ছিলেন। ‘পিয়ারু ফিশ’ এর স্বত্বাধিকারী পিয়ার মুহাম্মদ, তিতাস ফিশের স্বত্বাধিকারী গোলাম তাহের টগর ও রহমান ফিশের স্বত্বাধিকারী সেখ মতিয়ার রহমান কুরবান লোকসমাজকে জানান, সভায় সিদ্ধান্ত হয় এই মুহূর্তে তারা হঠকারী পাইকারদের বিরুদ্ধে কোনা অ্যাকশনে যাবেন না। ফের যদি ওরা মাছ বাজারে এসে কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওই পাইকারদের কাছে আড়তদাররা আর মাছ বিক্রি করবে না। এরপরও ঝামেলা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে মাছ বাজারের আড়তদারদের বিরুদ্ধে টাকা পরিশোধের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা অস্বীকার করেছেন সমিতির নেতারা। বড়বাজার মাছ বাজারের খুচরা মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কেষ্টপদ বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে লোকসমাজকে জানান,প্রতিদিন খুচরা বিক্রেতারা আড়তদারদের কাছ থেকে বাকিতে মাছ কিনে থাকেন। স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলে। আড়তদাররা পাইকারদের কাছে নিয়মমাফিক বকেয়া পরিশোধের তাগাদা করে থাকেন। এটা প্রতিদিনকার ঘটনা। কিন্তু আড়তদাররা করোনা পরিস্থিতিতে পাইকারদের ওপর টাকা পরিশোধের জন্য জোরেশোরে চাপ দিচ্ছেন এমন অভিযোগ ঠিক না।

ভাগ