স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের হাশের আলীর স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ইমরোজ হোসেনের পিতা নুর ইসলাসসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইমরোজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেলিম রেজা পান্নু নেপথ্যে থেকে হাশেম আলীর স্ত্রী লিলিমা বেগমকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক এই মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস কাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন নিহত ইমরোজ হোসেনের বোন তানিয়া আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই প্রকাশ্যে সেলিম রেজা পান্নুর হুকুমে সন্ত্রাসীরা ইমরোজ হোসেনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় সেলিম রেজা পান্নুকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার পিতা নুর ইসলাম। এ মামলার কয়েকজন আসামি আটকের পর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। প্রধান আসামি সেলিম রেজা বর্তমানে এ মামলায় জামিনে রয়েছেন। কিন্তু তিনি মামলা থেকে রেহাই পেতে বাদী নুর ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছেন। এমনকী মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তানিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, হাশেম আলীর ছেলে আছর আলী তার ভাই ইমরোজ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেলিম রেজা পান্নুর সাথে চলাফেরা করেন। এরই সুযোগ নিয়ে হাশেম আলীর স্ট্রোকে মৃত্যুকে পুঁজি এবং তার আছর আলীকে ব্যবহার করে লিলিমা বেগমকে দিয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছেন সেলিম রেজা পান্নু। মূলত ইমরোজ হত্যা মামলা থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এবং বাদীর পরিবারকে চাপে রাখতে সাজানো মিথ্যা মামলা করিয়েছেন সেলিম রেজা পান্নু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বলা হচ্ছে আছর আলী প্রতিবেশী আকবর আলীর খেজুর গাছের রস খাওয়াকে কেন্দ্র করে হাশেম আলীকে মারধর করা হয়। কিন্তু এ ঘটনায় যদি হাশেম আলীর মৃত্যু হয় তাহলে হত্যা মামলা হলে আকবর আলী আসামি করা হলোনা কেন ? তিনি বলেন, আসলে পুরো ঘটনা একটি ষড়যন্ত্র মাত্র। হাশেম আলীকে তার পিতা নুর ইসলাম বা স্বজনেরা কেউ মারধর করেননি। হাশেম আলীকে তারা ঠিকমত চিনতেনও না। একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেলিম রেজা পান্নুর ষড়যন্ত্রে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। তানিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, সেলিম রেজা পান্নুসহ তার লোকজনের বিভিন্ন হুমকি ধামকির কারণে তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যন্যের মধ্যে তানিয়া আক্তারের চাচা আবুল হাশেম, ইউপি সদস্য ইকরামুল কবির, সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন, চাঁচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান, হাশেম আলী হত্যা মামলার বাদী লিলিমা বেগমের বোনের ছেলে মিকাইল হোসেন, ভাইপোর স্ত্রী মিলিকা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।





