শিমুল হাসান,লোহাগড়া(নড়াইল)॥ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়ায় রহিমা বেগম (৫৪) নামে এক মহিলাকে জবাই করে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রহিমা লাহুড়িয়া সায়মানারচর গ্রামের আলী আকবর মোল্যার স্ত্রী। পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের অন্তত ২০ জন দুর্বৃত্ত আকবর মোল্যার বাড়িতে লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় বাড়ির লোকজন চেঁচামেচি শুরু করলে তারা বাড়ির সদস্যদের বেঁধে রেখে রহিমা বেগমকে জবাই করে হত্যা করে চলে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে । এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বুলবুল মাস্টার ও মশিয়ার খান মেম্বারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। নিহত রহিমা বুলবুল মাস্টার গ্রুপের লোক বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যার পর লাহুড়িয়া ছায়মানারচর গ্রামে জমা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে হিরু মোল্যা, নেপুর মোল্যা, ছালাম মোল্যা, ঝানু মোল্যা, জিল্লু মোল্যা, হাসিব মোল্যা, টুকু মোল্যা, আবুল মোল্যা, পান্নু মোল্যা, রাজা মোল্য, উজির সরদার, সাহিদার সরদার, লুৎফর সরদারসহ অন্তত ৫০/৬০ জনে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর মশিয়ার খান সহ মোঃ আতিয়ার খান, মোঃ নজরুল খান, মোঃ রাশেদ খান, মোঃ মান্নান খান, নজীর খান, সাইদ মোল্যা, সুলতান মাস্টার, মোঃ মজিবর, মোঃ সত্তার মোল্যা, আরিফ মোল্যা ও সাবু মোল্যার বাড়ি সহ অন্তত ১৫টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। অন্তত ২১টি ঘরের টিনের বেড়া ভাংচুরসহ কুপিয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী করা হয়। মারপিটে জখম হয় তিনজন। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সূত্র জানায়, সোমবার রাতের ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১০টার দিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্ত আকবর মোল্যার বাড়িতে লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় বাড়ির লোকজন চেঁচামেচি শুরু করলে তারা বাড়ির সদস্যদের বেঁধে রেখে রহিমা বেগমকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। লাহুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ দাউদ হোসেন বলেন, নিহত ওই মহিলা আমার সমর্থক ছিলেন। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম জানান, রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে রহিমা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিলাম। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত নড়াইল সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, রহিমা হত্যাকান্ডের ঘটনা রহস্যজনক। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার সদস্যদের যোগসাজস আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





