তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা॥ সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগেই তালা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার গাছ থেকে পাড়া হচ্ছে অপরিপক্ব কাঁচা আম। অপরিপক্ব এ আমে কেমিক্যাল স্প্রে করে টকটকে রং তৈরি করা হচ্ছে। কৃত্রিমভাবে আম পাকানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত কার্বাইড। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি লাভের জন্য পাটকেলঘাটা থেকে প্রতিদিন ট্রাক ট্রাক এই অপরিপক্ব বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত আম ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। কয়েকজন আম ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিদেশে আম রফতানি করা অসম্ভব হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালার এক আম ব্যবসায়ী বলেন, ‘অত্র এলাকার অপরিপক্ব আম ঢাকার বাজারগুলোতে বৈশাখী আমের নামে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। রমজানে দেশব্যাপী পাকা আমের চাহিদা রয়েছে, এজন্য দামও বেশি। এছাড়া সাতক্ষীরার আমের সুখ্যাতি থাকায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আগেভাগে পাঠানো হচ্ছে।’
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে অনুযায়ী জেলায় আম চাষির সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০ জন। চলতি মৌসুমে জেলার ৫ হাজার ২৯৯ টি বাগানে ৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হিমসাগর ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর, ন্যাংড়া ৫৬৪ হেক্টর, আম্রপালি ৮৯৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বাকি জমিতে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, লতাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। এ মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মে. টন। তালা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তালা উপজেলায় ৭১৫ হেক্টর জমির ১ হাজার ৪৭৫টি বাগানে ৭ হাজার ৭০ মে. টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে কেউ যদি অপরিপক্ব আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাতকরণের চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক ও মাঠে রয়েছেন।’ নির্ধারিত দিনক্ষণের আগে গাছ থেকে অপরিপক্ব আম পাড়া ও বাজারজাত করা যাবে না বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ন্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আম্রপালি আম পাড়া ও বাজারজাতকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে যদি কোনো বাগানের আম পরিপক্ব হয় তবে সেটি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’ তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের ফলন কম হয়েছে। এরই মধ্যে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ব আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাতকরণের চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সেগুলো আটক করেছি। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘সাতক্ষীরায় নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে। এই সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নির্ধারিত দিনের আগে গাছ থেকে আম পাড়া যাবে না মর্মে আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া অপরিপক্ব আম কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাতকরণের চেষ্টা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





