স্টাফ রিপোর্টার, অভয়নগর (যশোর) ॥ যশোরের অভয়নগরে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন সাবেক চরমপন্থি শেখ আতিয়ার রহমান আতাই (৫৭)। বর্তমানে তিনি পাটকলের বদলি শ্রমিক ছিলেন। ছয় বছর আগে ২০১৪ সালের ১৭ রমজান সংঘটিত একটি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ঠিক ছয় বছর পর এবং একই দিনে (১৭ রমজান) ওই নিহত ব্যক্তির স্বজনদের হাতে খুন হলেন আতাই। গত সোমবার রাতে অভয়নগর উপজেলার মোয়াল্লেমতলা গ্রামে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।
অভয়নগর থানা পুলিশের ওসি তাজুল ইসলাম জানান, তিনি স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানতে পেরেছেন ২০১৪ সালে নিহত নিশানের খালাতো ভাই লিমন (২৪), কাজী তারেক (২৫) ও মুন্না (২৪) রাত সাড়ে সাতটায় এলাকার রাস্তার ওপর আতিয়ার রহমান আতাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিস্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১ টায় মারা যান আতাই। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ খুলনা মর্গে নেয়া হয়েছে। তবে এখনও তার পরিবারের কেউ থানায় কোন অভিযোগ দেননি।
ওসি আরও জানান, নিহত আতাই তার শ্যালক গিয়াস উদ্দীনের নেতৃত্বে ২০১৪ সালের আগে থেকে যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট ও খুলনার ফুলতলা উপজেলার উত্তর ডিহি, পায়গ্রাম কসবা ও ফুলতলা বাজার এলাকায় চরমপন্থি দলের কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চরমপন্থি দলের অপর পক্ষের নিশান নামে এক নেতার সাথে তাদের দ্বন্দ্ব ছিল। ২০১৪ সালের ১৭ রমজান রাতে গিয়াসের নেতৃত্বে খুন করা হয় নিশানকে। কিন্তু নিশান হত্যাকা-ে তার পরিবারের কেউ থানায় মামলা না করায় অভয়নগর থানা পুলিশ বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দীন, শেখ আতিয়ার রহমান আতাইসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। তখন গিয়াস ও আতাই ভারতে পালিয়ে যান। এরমধ্যে সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে পুলিশের দায়ের করা ওই হত্যা মামলা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এক বছর আগে বাড়ি ফেরেন আতাই। এরপর স্থানীয় জেজেআই জুট মিলে বদলি শ্রমিকের চাকরি নেন তিনি। গত সোমবার নিশান হত্যার ঠিক ছয় বছরের মাথায় এবং ১৭ রমজানের রাতেই খুন হলেন সাবেক চরমপন্থি আতাই।





