স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই যশোরে ঈদের বাজারে শিশুরা

আকরামুজ্জামান ॥ করোনা সংক্রমণের মধ্যেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই যশোরে ঈদের বাজারে অভিভাবকরা নিয়ে আসছেন তাদের শিশু সন্তানদের। সরকারি নির্দেশে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রধান শর্ত ছিলো স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে সামাজিক দূরত্ব মানার পাশাপাশি বাজারে শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের না নিয়ে আসার ওপর। কিন্তু এসব নির্দেশনার কোনো কিছুই যশোরের বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না। বরং একশ্রেনীর বিবেকহীন অসচেতন মা-বাবা করোনার এই মহামারীর মধ্যেও তাদের অপ্রাপ্ত বয়সের সন্তানদের নিয়ে আসছেন ঈদের বাজারে। এ পরিস্থিতিতে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাও করোনা সংক্রমণের চরম ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন।
গত ১০ মে রোববার থেকে সারাদেশে সরকারি নির্দেশনায় সীমিত পরিসরে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। তবে রাজধানীসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিভাগীয় শহরে করোনা সংক্রণের ঝুঁকি এড়াতে সেখানকার ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খুলে দেয়া থেকে বিরত থাকলেও যশোরের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রথম দিনেই যশোরের বাজারগুলোতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে এসব মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো প্রবণতাই ছিল না। যে কারণে এ নিয়ে গণমাধ্যম ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিতেও পড়ে। এ অবস্থায় যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে আসার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহবান জানিয়ে মাইকিং করা হয়। কোথাও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু কোনো প্রচারণা বা উদ্যোগেই কাজে আসেনি। বরং মার্কেট খোলার গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনেও মানুষের ঢল নামে যশোরের বাজারগুলোতে। সকাল ১১ টার দিকে যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে দেখা যায় দলে দলে নারী-পুরুষ যাচ্ছেন এইচএমএম রোডমুখো। এসব মানুষের কারো কারো হাত ধরে বাজারে যাচ্ছে ছোট্ট শিশুরাও। তাদের মুখে নেই কোনো মাস্ক, হাতে নেই গ্লাভস। উৎসব আমেজে ছুটছে তারা বাজারের দিকে। প্রচন্ড ভীড়ের মাঝে ঠেলাঠেলি করে তারা দোকানে প্রবেশ করছেন। এইচএমএম রোডে ছিট কাপড়, জুতা ও কসমেটিকস দোকানগুলোতে দেখা যায় শত শত মানুষ গায়ে গায়ে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছেন। কারোর মধ্যে বিন্দুমাত্র সচেতনতা নেই।
যশোর সদর উপজেলার খাজুরার নোঙরপুর এলাকার আবিদা সুলতানা তার দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে এসেছেন এইচএমএম রোডের ছিট বিতানে। আবিদা সুলতানার মুখে মাস্ক পরা থাকলেও তার শিশু সন্তান দুটির মুখে ছিল না কোনো মাস্ক। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাচ্চাদের নিয়ে কেন বাজারে এসেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন ভীড় হবে বুঝতে পারিনি। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য জুতা ও পোশাক কেনার জন্য তাদেরকে নিয়ে এসেছি। এরপর আর বাজারে আসবো না। একই কথা বলেন, আলী যাকের নামে আরেক এক ব্যক্তি। তিনি তার চতুর্থ শ্রেনীতে পড়–য়া পুত্র সন্তানকে নিয়ে বসুন্দিয়া থেকে বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাজারে আসতে বাধ্য হয়েছি। ছেলেটা বায়না ধরেছে বাজারে যাবে। তাই আর রেখে আসতে পারলাম না। তিনি বলেন, বাজারে এসে সত্যিই ভয় লাগছে। তাড়াতাড়ি চলে যাবো। এদিকে প্রতিটি দোকানের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হলেও অধিকাংশ ক্রেতা তা গ্রহণ করছেন না। এতে দোকানের মালিক ও কর্মচানীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা যায়। দোকান মালিকরা বলেন, ক্রেতাদেরকে বারবার বলা সত্বেও তারা এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলছেন না। এতে আমরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছি। ছিট ভান্ডারের এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আমি আর দোকানে আসবো কীনা ভাবছি। মার্কেট মালিকদের দাবি, দোকানিরা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তারা মার্কেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, ঈদের বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করা হয়েছে। তাছাড়া পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও তৎপর রয়েছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস কতটা ভয়াবহ এবং সারা দুনিয়ায় এর কারণে কত মানুষের প্রাণ গেছে তা সকলেই জানেন। প্রতিটি মানুষ টেলিভিশনে এসব সংবাদ দেখছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তারপরও কেনো মানুষ এ ব্যাপারে সতর্ক হচ্ছে না আমার বুঝে আসে না।

ভাগ