চুয়াডাঙ্গায় অসময়ে তরমুজ চাষে ঝুঁকছে চাষিরা : বিঘা প্রতি লাভ ২ লাখ টাকা

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা ॥ চুয়াডাঙ্গা জেলায় অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৮ হাজার টাকা খরচ করে লাভ করছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাজারে এ তরমুজের দাম অনেকটাই কম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ হাজার ২৭৪ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৮ বিঘা, দামুড়হুদা উপজেলায় ৫৭৩ বিঘা ,জীবননগর উপজেলায় ২১৮ বিঘা ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩৮ বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। অল্প খরচে ৪৫ দিন থেকে শুরু করে ৬৫ দিনের মধ্যে এক লাখ থেকে দেড় টাকা লাভ হওয়ায় এই জেলায় তরমুজ চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হারিস মিয়া জানান, তিনি পাঁচ বছর যাবত ব্লাকবেরি জাতের তরমুজ চাষ করে আসছেন। বীজ বপনের দু মাসের মাথায় ফল পাওয়া যায়। গত বছর এ সময়ে তরমুজের দাম মণ প্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা পেয়েছি। কিন্তু এখন করোনা মহামারির কারণে দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ পাচ্ছি। এ কারণে লোকসান না হলেও খুব একটা লাভ হবে না। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের তরমুজ চাষি আব্দুল কাদের বলেন, গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজের জাতটা হাতে পাওয়ার পর চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। বিঘাপ্রতি চাষে খরচ হয় ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা। খরচ বাদে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। কিন্তু এবার করোনার কারণে লাভ একটু কম হবে। একই উপজেলার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের তরমুজ চাষি শামীম বলেন, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের বাজার অনেক ভাল। এ বছর আমি ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। আগামী বছর তিন বিঘা জমিতে চাষ করবো। বেশি লাভ হওয়ায় এলাকার অনেক চাষি এই তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছে। একই গ্রামের কৃষি শ্রমিক মিলন জানান, দেশে করোনা মহামারি হলেও আমরা নিয়মিত কৃষিকাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে তরমুজ ট্রাকে তুলে দিই, এ জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হাজিরা পাই।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ অসময়ে মাচায় চাষ হয়। এর ফলন ভাল, চাষ লাভজনক। করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রথম দিকে ট্রাক ঠিকমত চলেনি। এ কারণে দাম একটু কম পাওয়া গেলেও এখন ভালো পাওয়া যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় অসময়ে ব্লাকবেরি ও গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে ৪ হাজার ২৭৪ বিঘা জমিতে। বিঘা প্রতি ৮০ মণ হিসাবে ফলন পাওয়া যাবে ৩ লাখ ৪২ হাজার মণ। ব্লাকবেরি জাতের তরমুজ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে। এ হিসাবে প্রতি মষ ১ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হবে ৪১ কোটি ৪০ হাজার টাকায়। তরমুজ চাষ এ জেলার অর্থনীতির আশীর্বাদ। এ চাষের ধারা ধরে রাখতে সরকারি সাহায্য সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তরমুজ চাষিরা।

ভাগ