স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল উদ্ধারের মামলায় আটক শহিদুল ইসলাম গতকাল রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সরকারি এই চাল বেচাকেনার সাথে ৪ জন জড়িত বলে তিনি আদালতকে জানিয়েছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শহিদুল ইসলাম তাহেরপুর গ্রামের সোলাইমান মোড়লের ছেলে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল এ মামলায় আটক মনিরামপুরের চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাদের জবানবন্দি থেকে শহিদুল ইসলাম এবং জোড়নপুর গ্রামের জগদীশের নাম প্রকাশ পেয়েছিলো।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলাম জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধান-চালের ব্যবসা করে আসছেন। তার চাতাল ও রাইস মিল আছে। গত ৩০ মার্চ তিনি খাদ্যগুদামে যান মিলের নামে কোন বরাদ্দ আছে কি-না তা জানতে। পরে গুদাম থেকে বের হয়ে আসার সময় কুদ্দুস, জগদীশ ও মামুন নামে ৩ ব্যক্তির সাথে তার দেখা হয়। তারা চাল কেনাবেচা নিয়ে আলাপ করছিলেন। এ সময় তারা তাকে গুদামের চাল কেনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সরকারের ত্রাণের চাল হওয়ায় তিনি কিনতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি মামুন, কুদ্দুস এবং বাচ্চু নামে অপর একজনের কাছ থেকে ১৬ মেট্রিক টন চাল কেনেন। পরদিন খুলনা থেকে গুদামে চাল এলে খাদ্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এক ট্রাক চাল মামুনের চাতালের গুদামে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে বাজারের লোকজনের কাছ থেকে জেনেছেন বলে জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল রাতে মনিরামপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিজয়রামপুরের ভাই ভাই রাইস মিলের গুদামে অভিযান চালিয়ে সরকারের কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচির ৫৫৫ বস্তা চাল উদ্ধার করে। এ সময় চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাকচালক ফরিদ হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই তপন কুমার সিংহ মনিরামপুর থানায় একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। তদন্ত এই সংস্থা ঘটনার সাথে জড়িত শহিদুল ইসলামকে আটকের পর রোববার আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এদিকে ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ জানান, আটক শহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।





