যশোরে ফের মদপানে মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ভেজাল অথবা বিষাক্ত মদপানে ফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শহরের বকচর ও মুড়লিতে ৩ জনের মৃত্যুর খবর শোনা গেলেও একজনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মুড়লি খাঁ পাড়ার বাবলু হোসেন (৪৫) নামে ওই ব্যক্তি গতকাল রোববার সকালে মারা যাওয়ার পর দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তও হয়েছে। মুড়লি খাঁ পাড়ার একটি সূত্র জানায়, এলাকার ফকির আলীর ছেলে পরিবহন শ্রমিক বাবলু হোসেন (৪৫) গত শনিবার গভীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রোববার ভোরে পরিবারের লোকজন তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি নিয়ে যান।
কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, খবর পেয়ে দুপুরে তারা বাবলু হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তিনদিন আগে রামনগর এলাকার এক ব্যক্তি বাইসাইকেলে করে বাবলু হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে মদ সরবরাহ করেছিলেন। ওই মদ সেবনের পর হয়তো বিষক্রিয়ার তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে মুড়লি খাঁ পাড়ার মৃত বাদল শেখের ছেলে শাহাদৎ হোসেন গত শনিবার রাত ১০ টার দিকে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হলেও পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অপরদিকে বকচরে মদপানে আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির মদপানে মারা যাওয়ার খবর প্রচার হলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজিজুল ইসলাম জানান, তিনিও এ ধরনের খবর পেয়েছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে এর কোন সত্যতা পাননি। কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, তারাও খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, সদর উপজেলার রামনগর এলাকার নুরু নামে এক ব্যক্তি ভেজাল মদ ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি রেক্টিফাইড স্পিরিট দিয়ে মদ বানিয়ে বিভিন্ন স্থানের মাদকসেবীদের কাছে সরবরাহ করছেন। তার কাছ থেকে মদ করেছিলেন মুড়লি খাঁ পাড়ার বাবলু হোসেন। উল্লেখ্য, ভেজাল অথবা বিষাক্ত মদপানে যশোর জেলায় সম্প্রতি ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় মারা গেছেন ১০ জন। একটি সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসজনিত কারণে যশোরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ সুযোগে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীরা রেক্টিফাইড স্পিরিট এবং ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে চোলাই মদ তৈরি করছেন। এ ধরনের মদ বিষাক্ত। এই মদপানে হয়তো মাদকসেবীরা মারা যাচ্ছেন।

ভাগ