স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে মামলার অভিযোগের ভিন্ন বক্তব্য দিলেন নারী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামের হাশেম আলী হত্যার বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী লিলিমা বেগম। সুষ্ঠু বিচার পেতে এ জন্য তিনি মামলাটি ডিবি পুলিশ অথবা পুলিশ ব্যুরা অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করার দাবিও জানিয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস কাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিলিমা বেগম অভিযোগ করেন, গত ১৫ জানুয়ারি খেজুরের রস খাওয়াকে কেন্দ্র করে তার ছেলে আছর আলীর সাথে একই গ্রামের নুরু মুহুরির লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে পরে তাদের বাড়ির অদূরে নুরু মুহুরির লোকজন তার ছেলেকে মারধর করেন। এ সময় তার স্বামী হাশেম আলী ছেলেকে রক্ষা করতে এলে তাকেও মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। কিন্তু হামলাকারীরা হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় পরদিন বিকেলে তার স্বামী বিনা চিকিৎসায় মারা যান।
এ সময় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, ‘মামলার এজাহারে আসামিরা বাড়ির ভেতর হামলা চালিয়ে মারধর এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সংবাদ সম্মেলনে বাড়ির অদূরে মারধর করা হয় এবং বাড়ি ভাঙচুরের কথা বলা হয়নি’ হামলার বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য কেন ? জবাবে লিলিমা বেগম কৌশলে মামলার এজাহারের কথা এড়িয়ে যান। এবার তিনি আরেক রকম কথা বলেন যে, বাড়ির পাশে রাস্তার উপর তার স্বামী ও ছেলেকে মারধর করা হয়। ‘প্রতিবেশীরা বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন’ সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের অবশ্য তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। সংবাদ সম্মেলনে লিলিমা বেগম বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার স্বামীর লাশের সুরতহাল তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্ত করার জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ‘পুলিশকে লাশ দিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে’ এমন প্রশ্নের জবাবে এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে, স্বামীর লাশ নিয়ে যেতে পুলিশকে বাধা দিয়েছিলেন।
ভাতুড়িয়ার নুরু মুহুরিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার মামলা করেছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে লিলিমা বেগম দাবি করেন, আসামিরা তাকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে তিনি সন্তান নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাক্ষীরাও হুমকির কারণে বাড়িঘর ছাড়া। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ ইনসপেক্টর শাহাজান আহমেদ তাকে এই মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলেছেন। এ সময় সাংবাদিকেরা তাকে প্রশ্ন করেন, আসামিরা সকলে ইমরোজ হত্যা মামলার বাদীসহ পরিবারের লোকজন। ইমরোজ হত্যা মামলার আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওই বাদীসহ পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে লিলিমা বেগম এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিলিমা বেগমের ছেলে আছর আলী, মামলার সাক্ষী আব্দুল মজিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অভিযোগ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনসপেক্টর শাহাজান আহমেদকে মোবাইল ফোন করা হয়। কিন্তু রিং হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, হাশেম আলীর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তারা অসঙ্গতি দেখতে পেয়েছেন। যা ‘আঘাতজনিত মৃত্যুর কারণ’ উল্লেখের পর্যায়ে পড়ে না। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক কীভাবে এ ধরনের রিপোর্ট দিতে পারেন তা তারা ভেবে পাচ্ছেনা। বিষয়টি হাসপাতালের আরএমওকে জানানো হয়েছে।

ভাগ