প্রকাশিত সংবাদের যবিপ্রবি শিক্ষকের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

গত ৬ মে দৈনিক লোকসমাজে ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে ল্যাবেই থেকেছেন যবিপ্রবির দুই শিার্থী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগ (জিইবিটি) এর সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ নাজমুল হাসান। তিনি বলেছেন, খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, একপেশে ও মিথ্যা তথ্য নির্ভর। সেখানে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হয়নি।
সংবাদটির একাংশে লেখা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি (জিইবিটি) বিভাগের দুই শিার্থী সাইদুর রহমান ও আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শিকের ল্যাবে বেশ কিছুদিন ধরে দিনরাত যাপন করে সেখানেই আহার, নিদ্রাসহ সকল প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ও গবেষণার কাজ করছেন। বিভাগীয় শিক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান তাদের গবেষণার সুপারভাইজার হওয়ায় তিনি এ কাজ করাচ্ছেন।’ জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, উক্ত দুজন শিক্ষার্থীর অবস্থানের বিষয় আমার জানা ছিল না। তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক গবেষণা কাজ করানো হচ্ছে, যেটা সঠিক নয়। বিশ^বিদ্যালয় বন্ধের মধ্যে ল্যাবে গবেষণার কাজ করানোর প্রশ্নই আসে না। বরং তাদের অবস্থান জানার পরপরই মাননীয় উপাচার্যেও তাৎক্ষণিক নির্দেশে তাদের দ্রুত ল্যাব ত্যাগের জন্য বলা হয়েছে। ল্যাবে শুধু আমার থিসিস ছাত্র নয়, জিইবিটি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ জিয়াউল আমিন ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ মশিয়ার রহমানের থিসিস শিক্ষার্থীও অবস্থান করছিলেন। সংবাদের কোথাও তাদের নাম আসেনি। এতে প্রতিয়মান হয় যে, সংবাদটি একপেশে, মিথ্যা তথ্য নির্ভর, অসম্পূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোনো অংশ না হওয়া সত্ত্বেও উক্ত সংবাদে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহোদয়ের মন্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ তিনি বিশ^বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। আমি বিশ^বিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে চলমান কোভিড-১৯ পরীক্ষণ দলের একজন সদস্য হিসেবে কাজ করছি। সুতরাং সামাজিক দূরত্বের অংশ হিসেবে আমার নিজস্ব ল্যাবে গিয়ে কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। গত ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ খ্রি. তারিখে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন শহীদ মসিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট পদ থেকে জনাব ড. মোঃ আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে আমাকে প্রভোস্ট নিয়োগ দেন। নিয়োগদানের পর থেকেই তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এই সংবাদটি সে প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে আমি মনে করি। এ ছাড়া উক্ত সংবাদের কোথাও ল্যাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের মন্তব্য নেওয়া হয়নি। যদি তাদের বক্তব্য নেওয়া হতো তাহলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসতো।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উলিখিত আছে দুই শিার্থীর সাথে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কথা হয়েছে, যার মধ্যে শিার্থী সাইদুর রহমান ল্যাবে থেকে কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন আর অন্য শিার্থী আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি বলে উলেখ আছে। এ বিষয়ে সকল তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের নিকট রয়েছে। তাছাড়া শিক নাজমুল হাসান অন্য দুই শিার্থীর বিষয়ে যে তথ্যটি উলেখ করেছেন তার মধ্যে একজন শিার্থী সরাসরি করোনা পরীার সাথে সংশিষ্ট থাকায় তাদের সাথে ড. নাজমুল হাসানের শিার্থীর বিষয়টি সামঞ্জস্য করা অনুচিত বলে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদক শিক ডঃ নাজমুল হাসানের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার সময় ওই দুই শিার্থীর বিষয়ে কোনোরূপ তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোনো শিককে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য প্রতিবেদক কোনোপ্রকার চেষ্টা করেননি। এ বিষয়ে প্রতিবেদক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও শিক প্রতিনিধি যবিপ্রবি শিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আমজাদ হোসেনের বক্তব্য নিয়েছেন সেখানেও ড. নাজমুল হাসানের শিার্থীদের ল্যাবে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোনোভাবেই সুপারভাইজার শিক ড. নাজমুল হাসানের অনুমতি ব্যতীত কোনো শিার্থী ল্যাবে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব তাই শিক ড. নাজমুল হাসান প্রকাশিত প্রতিবেদনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপেশে বলে প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ভাগ