শার্শায় ত্রান চেয়ে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে স্ট্রোক করে মারা গেলেন চা দোকানদার

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা॥ যশোরের শার্শায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ত্রান চেয়ে চেয়ারম্যানের বকুকি খেয়ে উত্তেজিত হয়ে ঘটনা স্থলে স্ট্রোক করে মারা গেলেন এক চা দোকানদার। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার শার্শার রুদ্রুপুর গ্রামে। এ ঘটনায় রুদ্রুপুর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র জানা গেছে, গত শনিবার শার্শার কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু এক মধ্যবিত্ত পরিবারকে কিছু ত্রান দেওয়ার জন্য রুদ্রুপুর গ্রামে যায়। এ সময় রুদ্রুপুর গ্রামের চা দোকানদার আকবার আলী চেয়ারম্যানকে দেখে ত্রান দাবী করে। এ সময় আকবর আলী বলেন তার খুব অভাব। দিন চলছে না। অনেকে ত্রান পেলেও সে কোন ত্রান পাইনি। এ সময় ইউপি চেয়াম্যান আকবর আলীকে ত্রান দেওয়ার কথা বলেন। স্থানীয়রা জানান, ত্রান চাওয়ায় চেয়ারম্যান চা দোকানদার আকবর আলীকে বকাঝকা করে। এ সময় আকবর আলীও উত্তেজিত হয়। এ পর্যায় আকবর আলি মাটিতে পড়ে যায়। এর ১০/১৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্রোক কওে আকবর আলী মারা যায়। এ সময় গ্রামের সাধারন মানুষ উত্তেজিত হলে চেয়ারম্যান অবস্থার বেগতিক দেখে ঘটনা স্থল ত্যাগ করে। মৃত আকবর আলী রুদ্রুপুর গ্রামের হাসমত আলীর জামাই। সে দীর্ঘ ৪০/৪৫ বছর ধরে রুদ্রুপুর গ্রামে বসবাস করে। করোনার কারনে চায়ের দোকান বন্ধ । অসহায় কর্মহীন হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিল আকবরের। হঠাৎ চেয়ারম্যানকে সামনে পেয়ে ত্রান চেয়ে ত্রান না পাওয়ার ক্ষুধা নিয়েই মারা গেল আকবর। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রামের অনেকে অভিযোগ করেন যারা দলের লোক তাদেরতে ত্রান দেওয়া হচ্ছে। যাদের মাঠে জমি আছে, পাকা ইটের বাড়ি তারাই ত্রান পাচ্ছে। অসহায় ,কর্মহীন ও প্রকৃত দুস্থ্য কেউ ত্রান পাচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন চেয়ারম্যানের আচারন এতটা খারাপ ছিল যে তার মাজায় দড়ি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করলে সে ভয়ে ষ্টক করে মারা যান। ওই গ্রামের ডাক্তার আতাউর রহমান ও ডাক্তার আয়ুব আলী বলেন, আকবর একজন ভুমিহীন। সে শ্বশুর বাড়িতে আজ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ থাকে। সে ত্রান পাওয়ার উপযুক্ত। তাকে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস শুরু থেকে কোন ত্রান দেয়নি। তার সাথে খারাপ আচারন করায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগে আরও বলেন চেয়ারম্যান ৪ কেজি চাল, ১ কেজি আলু ও হাফ কেজি ডাল ত্রান দিচ্ছে। আর যাদেরকে দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ারম্যানের লোক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু জানান, ঘটনাটি দুঃখ জনক। তিনি বলেন কিছুদিন ধরে হ্যালো চেয়ারম্যান কলে আমি রাতে, দিনে ত্রান দিচ্ছি। কল পেয়ে শনিবার বিকালে রুদ্রুপুর গ্রামে যায়। এ সময় চা দোকানদার আকবর আলী আমার কাছে ত্রান চাই। তখন তাকে ত্রান দিতে গেলে সে বলে আমরা গরীব বলে আমাদের কেউ কিছু দেয়না। এই বলে সে উত্তেজিত হয়। তিনি বলেন তখন গ্রামের লোকজন আববরকে বকাবকি করে। সেই টেনশনে হয়তো সে স্ট্রোক করে মারা গেছে।চেয়ারম্যান আরও বলেন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে আকবর আলীর মৃত্যু নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। তিনি তদন্ত করে এর বিচার দাবী করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি ফোনের মাধ্যমে শুনেছি। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইস গত ব্যবস্থা নেব।

ভাগ