‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমাদের এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রদূতের কথা বলা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব‌্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রোববার (১০ মে) সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নি‌য়ে এক ব্রিফিংয়ে এ মন্তব‌্য ক‌রেন তথ‌্যমন্ত্রী। দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কয়েকজন বিদেশি কূটনীতিকের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ সাতজন রাষ্ট্রদূত টুইট করে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যে, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তাদের এই টুইট করে কথা বলা কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের শামিল।’ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় যে কূটনীতিকরা কথা বলেন, আমি তাদেরকে অনুরোধ জানিয়ে বলবো, তাদের নিজ নিজ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও বিশ্বব্যাপী নানা প্রশ্ন আছে।’
‘বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু এবং বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের ওপর নির্যাতনে বিশ্বব্যাপী নানা প্রশ্ন আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং তাদের ওপর বেআইনি আচরণ নিয়ে বহুপ্রশ্ন বহুদিন ধরে বিশ্বব্যাপী আছে, যেগুলো নিরসন অনেক বেশি জরুরি বলে অনেকে মনে করেন।’ অন্য দেশের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার আগে নিজের দেশের ব্যাপারে যে প্রশ্নগুলো আছে সেগুলো নিরসন করাই বরং জনগণ তথা বিশ্ববাসী প্রত্যাশা করে বলে নিজস্ব অভিমতও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান মাহমুদ বলে‌ন, সরকারের সময়োচিত নানা পদক্ষেপের কারণে এখনও অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো। কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতিই তৈরি হতে পারে, মারাত্মক আকারও ধারণ করতে পারে। সরকার যেকোনো প‌রি‌স্থি‌তি মোকাবিলায় প্রস্তুত র‌য়ে‌ছে। বিএনপি’র উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার আগে ইউরোপ-আমেরিকা-ভারত-পাকিস্তানের পরিস্থিতির দিকে তাকান। তাহলেই তাদের তুলনায় আমাদের পরিস্থিতিটা বুঝতে পারবেন।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের এমন কথা বলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরকার ভালো উদ্যোগগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা এসব কথা বলছে। অথচ এই সময় বাদানুবাদের রাজনীতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’