যশোরে পরিবহন শ্রমিক ইমাদুল হত্যাপ্রচেষ্টায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের বকচর হুশতলায় পরিবহন শ্রমিক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ওরফে ইমাদুলকে গুলি করে হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। শ্যূটার বিল্লাল হোসেন ওরফে চোর বিল্লালসহ ৪ জনকে আসামি করে গত শুক্রবার রাতে মামলা করেছেন আহত বিএনপি নেতার বড় ভাই রেজাউল করিম। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। চোর বিল্লাল ছাড়া এজাহারভুক্ত অপর আসামিরা হচ্ছেন, বকচর হুশতলার মৃত নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে নুরু ড্রাইভারের ৩ ছেলে লিটন পাটোয়ারী, নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী বাবলু ও সাইফুল পাটোয়ারী।
রেজাউল করিমের অভিযোগ, উল্লিখিত আসামিরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং মাদকদ্রব্য ও চোরাই গাড়ি বিকিকিনি সিন্ডিকেটের সদস্য। এলাকার মিন্টু গাজীর নেতৃত্বে ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ান এবং বকচর হুশতলা মাঠপাড়ায় মেহগনি বাগানে জুয়ার আসর বসিয়ে থাকেন। তার (বাদী) ছোটভাই ইমাদুল এমন কর্মকাণ্ড করতে নিষেধ করায় তাদের সাথে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। তারা এ জন্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৪ এপ্রিল বিকেলে ইমাদুল হুশতলার মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে চক্ষু হাসপাতালের পাশে জনৈক কামরুলের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে ওৎঁপেতে থাকা আসামিরা আচমকা তার ওপর হামলা চালান। আসামি নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী ওরফে বাবলু এ সময় ইমাদুলকে ঝাপটে ধরলে আসামি বিল্লাল হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালান। হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে একটি গুলি তার বাম হাতের তালু ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এ সময় মিন্টু গাজী ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিল্লালের ছোড়া আরেকটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা মিন্টু গাজীর পেটে গিয়ে লাগে। এর ফলে ইমাদুল ছাড়াও মিন্টু গাজী আহত হন। সূত্র জানায়, ঘটনার সময় আসামি সাইফুল পাটোয়ারী ও লিটন পাটোয়ারী বাঁশের লাঠি দিয়ে ইমাদুলকে মারধরও করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ইমাদুলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। এছাড়া মিন্টু গাজীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানান, ইমাদুলকে গুলি করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন থানা পুলিশের এসআই কামাল হোসেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত বিল্লাল অস্ত্র-গুলিসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। অপর আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

ভাগ