মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন অলঙ্কার তৈরির কাজে নিয়োজিত কারিগররা। প্রায় দুই মাস যাবত কোনো কাজ নেই, ব্যবসা বন্ধ, কারখানা খোলা হয় না এই অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে এক ধরনের হতাশার মধ্যে দিন কাটছে যাচ্ছে তাদের। চৌগাছা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় শতাধিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী আছেন। আর এই সব স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কারখানায় ২শর মত কারিগর কাজ করেন। বছরের অন্য সময়ে অলঙ্কার তৈরির কাজে নিয়োজিত কারিগররা প্রতিদিন যা রোজগার করেছে তাতেই চলেছে ওদের সংসার। কিন্তু গত দুই মাস ধরে করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের মত সীমান্তবর্তী উপজেলা চৌগাছার সকল জুয়েলারি দোকান বন্ধ, কাজ হয় না কোনো কারখানায়। খেয়ে না খেয়ে অনেক কারিগর দিন পার করছেন।
অলঙ্কার কারখানায় কর্মরত কারিগর বাবলুর রহমান, পূর্ণ বিশ্বাস, পবিত্র কুমার বিশ্বাস, ইকবাল হোসেন, স্বপন কুমার বিশ্বাস, শুনিল কুমার, সাধন কুমার, রমেশ চন্দ্র, প্রভাষ কুমার, গৌতম কুমারসহ একাধিক কারিগর জানান, গত দুই মাস পরিবার পরিজন নিয়ে কি ভাবে বেঁচে আছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। বলাচলে আমরা দিন আনা দিন খাওয়াদের মধ্যে অন্যতম। যে দিন কাজ হয় সেদিন ভাল চলে আর কাজ না হলে চলে না।
করোনা ভাইরাসের আগে প্রতিদিন ৫শ হতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার করে অনেক কারিগর বাড়িতে ফিরেছে। হঠাৎ করে এই ভাইরাসের কারণে প্রায় ২ মাস ধরে কাজ বন্ধ। মালিকরা তাদের ব্যবসা বন্ধ রেখেছে, কারখানাও বন্ধ। এই অবস্থায় ২শ কারিগরের সাথে সম্পৃক্ত অন্তত ৬শ ব্যক্তি অর্ধহারে অনাহারে দিন পার করছেন। কারিগররা জানান, গত দুই মাসের মধ্যে দোকান মালিকরা দুইবার খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে। কিন্তু তাতে কয়দিন চলে ? মালিকদের দেওয়া সাহায্য ছাড়া তারা আর কোনো সাহায্য পায়নি। শ্রী দুর্গা জুয়েলার্সের মালিক রতম কুমার দে জানান, ‘কেন্দ্রীয় জুয়েলারি সমিতির নির্দেশ মোতাবেক আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। নির্দেশ পেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। এই দুই মাসে কারিগরসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ী এমনকি দোকানের কর্মচারীরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা যতটুকু পেরেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’ উপজেলা জুয়েলারি সমিতির সভাপতি অনন্ত কুমর বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে সব কিছ্ইু এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার কারিগরসহ বেশ কিছু স্বর্ণব্যবসায়ী এই দুর্যোগকালীন সময়ে অনেক কষ্টে আছেন। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু সময়টি দীর্ঘ হওয়ায় সেই দাঁড়ানোও এখন যেন আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে খুব দ্রুতই জুয়েলারি সমিতির নেতবৃন্দ উপজেলা প্রশাসনের সাথে বসবেন বলে তিনি জানান।’





