বাড়ির মালিকের ছেলের আগুনে ভাড়াটিয়া গৃহবধূর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥ টানা ১০দিন মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করে হেরে গেলেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নেওয়া অগ্নিদগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ জুলেখা খাতুন (৩৫)। ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানায়, গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ৮০% ভাগ দগ্ধাবস্থায় কুষ্টিয়ার জুলেখা খাতুন বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অবস্থার উন্নতি না হলেও স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রোগীর স্বজনরা ছাড়পত্র নিয়ে কুষ্টিয়াতে চলে যান। কুষ্টিয়াতে এসে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বৃহষ্পতিবার রাতেই তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, রোগীর দেহের প্রায় ৮০% ভাগ দগ্ধ ছিলো; ঘটনার দিন গত ২৯ এপ্রিলই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো। এ জাতীয় দগ্ধ রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সাপোর্ট আমাদের এখানে নেই। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৯ এপ্রিল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকায় বাড়ি মালিকের ছেলের ছুঁড়ে দেয়া পেট্টোল ও আগুনে ভাড়াটিয়া গৃহবধূ জুলেখা খাতুনের দেহে অগ্নিদগ্ধের এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় জুলেখা খাতুন (৩৫)কে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। সেই সাথে জড়িত সন্দেহে বাড়িওয়ালা বজলুল হকের ছেলে মাদকাসক্ত রোকনুজ্জামান রনি (৩৫) কে আটক করে পুলিশ। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অগ্নিদগ্ধ জুলেখার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। কিন্তু হঠাৎ করে কী কারণে ঢাকা মেডিকেল থেকে রোগীকে পরিবারের লোকজন নিয়ে আসলো তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান ওসি। নিহত জুলেখা খাতুন (৩৫) মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া গ্রামের মেহেদী হাসানের স্ত্রী। ঘটনাস্থল কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার বজলুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা যায়। এ বিষয়ে নিহতের স্বামী মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।