খাদ্য সঙ্কটে কেশবপুরের হনুমান তে ও বাড়িতে বাড়িতে হানা

এস এম মজনুর রহমান,মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের কেশবপুরের কালোমুখী হনুমান খ্যাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। তাদের জন্য করা অভয়ারণ্য থেকে বেরিয়ে তারা পাশের মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলের তে তছনছ করছে ও বাড়িতে বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম জানান, অভয়ারণ্যে বর্তমান হনুমানের সংখ্যা রয়েছে ছয়শ’। সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রতিদিন ৩৫ কেজি পাকা কলা, চার কেজি বাদাম এবং চার কেজি পাউরুটি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগন্য। ফলে খাদ্যভাবে হনুমানের দল বিভিন্ন লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, হনুমান আগে খাবারের জন্য বাজার এলাকায় ভিড় করতো। কিন্তু করোনার সংক্রমণ রোধে বাজারে বিভিন্ন দোকান ও হোটেল বন্ধ থাকায় তারা এখন ফসলের তে ও বাড়িতে আসছে। কেশবপুর থেকে মনিরামপুর উপজেলার মুজগন্নি, দূর্গাপুর, সৈয়দ মাহমুদপুর, গোবিন্দপুর, বাটবিলা, বাঙালীপুর, নাগোরঘোপ, ফকিররাস্তা পেরিয়ে এখন পৌরশহরে অবস্থান করছে। পৌরশহরের মোহনপুর, বিজয়রামপুর, হাকোবা, গাংড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হনুমানের পালের আনাগোনা বেড়েছে। মুজগন্নি গ্রামের কৃষক আবদুল করিম বলেন, হনুমানের দল যেভাবে প্রতিনিয়ত অত্যাচার করছে, তাতে বর্তমান বাড়িঘর ফেলে পালানো ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি জানান, ইতিমধ্যে তার মাল্টা লেবুর বাগানে হনুমান হানা দিয়েছিল। সে কারণে এখন সার্বক্ষণিক পাহারা দিতে হচ্ছে।
অপর কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুধু সবজি বা গাছের ফল নয়, পাট গাছের কচি ডগা, কচি ডাবও খেয়ে ফেলছে-এমনকি সুযোগ পেলে ঘরে ঢুকে রান্না করা হাড়ি ভর্তি খাবার নিয়ে যাচ্ছে ক্ষুধার্ত হনুমানের পাল। মণিরামপুর পৌরসভার হাকোবা এলাকার গৃহবধূ সুনিতা রাণী কুন্ডু জানান, প্রতিদিন সকালের দিকে হনুমানের পাল বাড়ির আাঙিনায় এসে বসছে। এছাড়া বাড়ির মধ্যে ঢুকে হাতে খাদ্যখাবার দেখলে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। শংকরী রাণী কুন্ডু জানান, তারা খুশি হয়ে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন খাদ্যখাবার দিয়ে থাকেন হনুমানের পালকে। মণিরামপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,হনুমানগুলো পাশের কেশবপুর উপজেলা থেকে আসছে। কেশবপুর পৌর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর তীরে হনুমানের অভয়ারণ্য গড়ে ওঠে প্রায় দেড়যুগ আগে। সরকার এ অভয়ারণ্যে হনুমানের জন্য খাদ্যও বরাদ্দ করে।

ভাগ