লকডাউন শিথিলে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

লোকসমাজ ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমতে থাকায় লকডাউন শিথিল করছে কয়েকটি দেশের সরকার। তবে এনিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করেছেন তারা। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ শেষে অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠেছে চীন। পর্যটন শহরগুলো পর্যটকে ভরে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে সেলুন ও শপিল মলগুলো খুলেছে। ইতালিতে সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ থাকায় দূরে থাকা পরিবারের সদস্যরা দুই মাস পর একত্রিত হয়েছে। ৭ সপ্তাহ ঘরে বসে থাকার পর স্প্যানিয়ার্ডরা ব্যয়াম করতে বের হয়েছেন।
জার্মানিতে চার্চ, জাদুঘর ও কিছু স্কুল তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। মাসব্যাপী লকডাউনের পর প্রাণ ফিরে এসেছে নাইজেরিয়ার আবুজা ও লাগোস শহরে। রাস্তায় গাড়ি ও মিনিবাসের হর্নে যেন স্বস্তি ফিরে এসেছে জনজীবনে। করোনা এখনো নির্মূল হয়নি। তবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে তুলতে এই ভাইরাসের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বসবাসে লকডাউন প্রত্যাহার কতটা কল্যাণকর তা ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, দেশের সরকার প্রধানরা ‘জুয়া’ খেলছে যার পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু হবে প্রথমটার চেয়েও মারাত্মক।
লন্ডনের হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন স্কুলের উদীয়মান বক্ষ্যব্যধি রোগের অধ্যাপক ডা. অ্যানেলিস ওয়াইল্ডার-স্মিথ বলেছেন, ‘আমরা দোদুল্যমান অবস্থায় আছি। ভাইরাস এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক ও মানসিক হতাশাসহ সামাজিক লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে সরকারগুলো। এটা বিশাল অভিজ্ঞতা।’ যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক প্রকাশনায় দাবি করেছে, নিরাপদে লকডাউন শিথিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশিষ্ঠ্য পুরোপুরি মানেনি অনেক দেশ। ওয়াশিংটনের কায়সার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল হেলথ পলিসির সহযোগী পরিচালক জশ মিশাউড বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না করে আমরা যদি কড়াকড়ি শিথিল করি তাহলে আরো অনেক সংক্রমণের আশঙ্কা সত্যি হবে, দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যুর হারও বাড়বে।’

ভাগ