চৌগাছায় বন্ধ বিদ্যালয়গুলোর মাঠে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ করেনা ভাইরাসের কারণে সারা চৌগাছা উপজেলায় সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস হতে যাচ্ছে বন্ধ রয়েছে। একটানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেকটাই অলস হয়ে পড়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে স্কুল কলেজের মাঠ এমনকি মাঠের পাশের সব ধরনের বৃক্ষ তরুলতা যেন নতুনভাবে নিজেদেরকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মাঠগুলোর দিকে তাকালে সেই দৃশ্য চোখে পড়ছে।
সরকারের ঘোষণা মোতাবেক দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ। লাখ লাখ শিক্ষার্থী আজ ঘরে বন্দি। কারও সময় কাটছে বই পড়ে, গল্প করে, টিভি দেখে কিংবা গেমস খেলে। বলাচলে অঘোষিত লকডাউন বড়রা অমান্য করলেও বাড়ির এই ছোটরা কিন্তু সেটি যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। দিনের পর দিন প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না, পারছে না বন্ধুদের সাথে কথা বলতে খেলতে। যার কারণে শিক্ষার্থীদের মানে কিছুটা কষ্ট থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি তারাও উপলব্ধি করছে এবং যথাযথ ভাবে মেনে নেয়াার চেষ্টাও করছে। প্রায় ২ মাস ধরে সারা দেশের মত চৌগাছা উপজেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো বন্ধ। পূর্ব আকাশে সূর্যের আলো ছড়ানোর সাথে সাথে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠত। যা দিনের পুরো সময়টা জুড়ে দেখা যেত। কিন্তু গত দুই মাস ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠে নেই কোন হৈ-হুল্লোড়, যেন সর্বত্রই চলছে শুনসান নীরবতা। শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এমনকি অভিভাবকের অনুপস্থিতির কারণে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের প্রকৃতি যেন অপরুপ সাজে সেজেছে।
সোমবার উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে প্রকৃতির এই দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় দেখা যায়, বন্ধ থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো শিক্ষক, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ। কোথাও ফাঁকা মাঠের মধ্যে আবার কোথাও জনবসতির মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। ভবনগুলোও যেন বেশ একাকি হয়ে গেছে, কারণ দীর্ঘদিন সে তার প্রিয় শিক্ষক শিক্ষার্থীকে তো আর পাচ্ছে না। তবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে লাগানো বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল, ঔষধিসহ নানা ধরনের গাছ গাছালি যেন সেজেছে অপরুপ সাজে। খেলার মাঠেও দেখা মেলছে হরেক রকমের ঘাস আর তরুলতা। প্রায় দুই মাস এ সব গাছগাছালিতে মানুষের কোন স্পর্শ পড়েনি, পড়েনি ধুলাবালু, গাছগুলো আপন গতিতে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ আজ ঘরবন্দি, আর এই সুযোগে প্রকৃতি তার নিজস্ব রুপ গন্ধ আপন মনেই প্রকাশ করছে। এই থেকে সকলকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে প্রকৃতিকে ধ্বংস না, তাকে নিজের মত করেই প্রকাশ করতে দিতে হবে।

ভাগ