রুটি ভেবে চাঁদ ছিড়তে দিবেন না

0

গত কয়েকদিন টিভি ও পত্রপত্রিকার অন্যতম প্রধান খবর হচ্ছে রাস্তাঘাট হাটবাজারে মানুষের ভিড়। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের সব শহর নগর বাজারে এ দৃশ্য বিদ্যমান। শুধু বিদ্যমান বললে ভুল হবে, কারণ এই ভিড় প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, বিশেষ বাহিনীর টহলও এদের গতি পরিবর্তন করতে পারছে না। বলে রাখা ভালো, খবরের আলোচিত মানুষ কিন্তু রাজধানী নারায়ণগঞ্জ সাভার মানিকগঞ্জে চাকরিতে আসা পোশাক শ্রমিক নয়। টিভি লাইভে দেখানো খবর অনুযায়ী শহরগুলোতে আগত এই মানুষের সিংহভাগই কর্মজীবী। কেউ রিকশা, কেউ ঠেলাচালক। কেউ ইজি টেম্পো বা নসিমন করিমনচালক, কেউ ফুটপাতের হকার, কেউবা বন্ধ দোকান অথবা পরিবহন শ্রমিক। টিভি ও পত্র-পত্রিকার সব খবরে এদের শহরে ভিড় করা, সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলাচল করা, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোসহ উল্লেখযোগ্য বেশকিছু বিষয় তুলে ধরে করোনা বিস্তারে উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এদের অসচেতন মানুষ উল্লেখ করে নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক কঠোরতা দাবি করেছেন। আমরা মনে করি, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগজনক। ব্যাপক মানুষের লকডাউন বা ঘরে থাকার ঘোষণা উপো করে রাস্তায় আসা এবং অস্বাস্থ্যকরভাবে যত্রতত্র চলাচল করা অবশ্যই উদ্বেগ-উৎকন্ঠার। কারণ, এদের কারো করোনা সংক্রমণ হলে ব্যাপক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। ফলে আমরাও মনে করি, এদের দ্রুত ঘরে ফেরানো প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন দলে দলে মানুষ রাস্তায় আসছে এবং এদের ঘরে ফেরালে সেখানে থাকবে কিনা এ খোঁজ কেউ নিয়েছে কিনা। এসব না জেনে তাদের ঘরে ফেরালে থাকবে কিনা তা কেউ ভেবেছে কিনা। এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুয়েকটি টিভির বন্ধুরা রাস্তায় নামা এই মানুষদের অসচেতন বলে চালানোর চেষ্টা করলেও তাদেরই নেয়া বক্তব্যে শোনা যায় ওরা রাস্তার নেমেছে পেটের টানে। ঘরে খাবার নেই, মার্কেট বন্ধ, গাড়ি বন্ধ, কলকারখানা বন্ধ, ফুটপাত, নৌপথ, রেলপথ সবই অচল, ঘরে পরিবারের সদস্যরা অর্ধাহার-অনাহারে, রিলিফ-সাহায্য মিলছে না, রোজার মাস, সামনে ঈদ তাই নিজের বিপদ জেনেও কাজের জন্যে রাস্তায় আসতে হচ্ছে। লাঞ্চনাগঞ্জনা সহ্য করে কাজের সন্ধান করতে হচ্ছে। এসব কথা বলার সময় সবারই চেহারায় অসহায়ত্বের ছাপ ছিল স্পষ্ট। ফলে এদের আইন বা ঘোষণা না মেনে জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ করা নিয়ে যে ােভ ছিল বিবেচনাপ্রসূত ছিল বলে আর ভাবতে পারছি না। আমরা মনে করি, মিডিয়ার বন্ধুরাও বাস্তবতাকে মেনে ুধার্ত কর্মজীবী মানুষদের “অবিবেচক” জাতীয় বিশেষণে বিশেষায়িত করবেন না। তারা বরং এদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ত্রাণসামগ্রী কোথায় গেল তা অনুসন্ধানে আইন প্রয়োগকারীদের উৎসাহিত করবেন। আমরা চাই, প্রতিটি মানুষ তার বরাদ্দ পাক এবং আইন মেনে নিশ্চিন্তে ঘরে থাক। জনজীবন নিরাপদ হোক। তবে এ মুহূর্তে আমাদের চাওয়া আর বাস্তবতার মধ্যে যেহেতু বিস্তর ফারাক বিদ্যমান সেহেতু সরকারকে দুটি লাইন বলতে চাই। লাইন দুটি আমার নয়, ক্ষণজন্মা কবি সুকান্তের “ুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমাচাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”। কবিতার মর্মকথা অনুধাবন করুন, ুধার্ত মানুষ রুটি ভেবে চাঁদ ছিড়তে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগেই তাদের খাবার নিশ্চিত করুন।