মহামারি করোনা থেকে বাঁচাতে অসহায় প্রবীণদের পাশে থাকা দরকার

0

এম. এ. কাদের
মানুষের গড় আয়ু বাড়ার সাথে সাথে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। একটি সমীায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে বিশ্বে প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০ কোটিতে। ২০৩০ সালে এর সংখ্যা হবে ১৫০ কোটি এবং ২০৫০ সালে প্রবীণদের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমান বাংলাদেশে প্রবীণদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এর প্রায় ৫০ লাখ প্রবীণ অসুস্থ,অসহায়,অবহেলিত, নিঃসঙ্গ ও সেবাহীন জীবনযাপন করছেন। যাদের কারোরই করোনার ধাক্কা সামলানোর মত শারীরিক মানসিক বা অর্থনৈতিক সামর্থ নেই।
মহামারি করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর হার প্রবীণদেরই বেশি। ওয়ার্ল্ডোমিটার এর তথ্য মতে, পৃথিবীর মোট মৃত্যুর প্রায় শতকরা ৭০ ভাগই প্রবীণ। এই দুঃসময়ে তাদের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব নেবে কে? প্রবীণ সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, এর ফলে একসময় শিশুর চেয়ে প্রবীণের সংখ্যাই হবে বেশি। এ সময় পরিচর্যাহীন বার্ধক্যই দেশের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান সমাজে সবচেয়ে অবহেলার শিকার এখন অসহায় প্রবীণরাই। কিন্তু ক্রমবর্ধমান বার্ধক্যের অসহায়ত্ত মোকাবিলা করার মত দরকারি প্রস্তুতি আমাদের নেই। ভবিষ্যতে করোনার মত বিপর্যয় আসলে তার জন্য প্রবীণদের উন্নয়নের প্রয়োজন। এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।
অসহায় প্রবীণদের কল্যাণের বিষয়ে এখনই আমাদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি । কেননা বার্ধক্য হচ্ছে মানুষের অবধারিত সমস্যা। আজকের নবীনই আগামী দিনের প্রবীণ। তাই শ্রদ্ধার সংগে প্রবীণদের দেখভাল করতে হবে। আর এখন থেকেই নিজেদের স্বস্তিময় বার্ধক্যের প্রস্তুতি নিতে হবে। দয়া দাণ্যি বা করুনার দৃষ্টিতে নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে এবং প্রাপ্য মর্যাদার যুক্তিতে প্রবীণদের চাওয়া পাওয়া সমাধান করা প্রয়োজন। এর জন্য দরকার গণসচেতনতা, আর এই গণসচেতনতা সৃষ্টির ল্েয প্রবীণদের অবহেলা, অযতœ, দুর্ব্যবহার, নির্যাতনের ঘটনা এবং সবার করণীয় বিষয়গুলো সব শিা পাঠ্যসূচিতে এবং গণমাধ্যম কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে প্রবীণদের প্রতি কিছুটা হলেও সম্মান প্রদর্শন করা হবে। যে প্রবীণ যৌবনে তাঁর মেধা, মনন, দতা দিয়ে সমাজের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন,জীবনের সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন, মানব কল্যাণে অবদান রেখেছেন, বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে সেই মানুষটি অযতœ অবহেলার আস্তাকুড়ে নিপ্তি হয়। আপাতদৃষ্টিতে সমাজের বা সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব তাঁদের ওপর বর্তায় না। শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যত ও সুন্দর জীবন গড়ার জন্য পিতা-মাতা ও সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে অনুরূপ ভাবে প্রবীণদের জন্য সন্তান, সমাজ ও সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রবীণদের এই অসহায় দুর্দশা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর সমাধান না করলে প্রত্যেককেই বৃদ্ধ বয়সে এই অবহেলা ও কষ্টের স্বাদ নিতে হবে।
লেখক ও কলামনিস্ট,
কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ