লোকসমাজ ডেস্ক॥ পাকিস্তান হচ্ছে ক্রিকেট প্রতিভার খনি। এখানে যুগে যুগে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের উত্থান ঘটে। তবে সঠিক পরিচর্যা ও নিজেদের দোষে হারিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। তাদের মধ্যে অন্যতম নাম মোহাম্মদ আসিফ। পাকিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে এসে ক্রিকেটের সব সেরা সেরা ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলেছেন। সুইংয়ের পসরা সাজিয়ে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন খেলোয়াড়দের। এখনও কেভিন পিটারসেন, এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলাদের কাছে সবচেয়ে ভয়ানক বোলার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ২০১০ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে হারিয়ে গেছেন। তবে এর জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) দায়ী করছেন আসিফ। জানিয়েছেন, অন্য সবার মতো দ্বিতীয় সুযোগ পাননি তিনি।
২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাঠে ফিক্সিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন আসিফ। পান ৭ বছরের শাস্তি। তাঁর সঙ্গে শাস্তি দেখেছেন আমিরও। তবে শেষ পর্যন্ত আমিরের শাস্তি কমিয়ে তাকে ফেরানো হয়েছে ক্রিকেটে। আবার সাম্প্রতিককালে শারজিল খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও ইরফান খানের মতো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে অনেক নমনীয় ছিল বোর্ড। ফলে ক্রিকেটে ফিরে আবার জাতীয় দলের জন্য লড়ছে তাঁরা। তবে পিসিবি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি এমনটা জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘আমার আগেও অনেক খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়েছে। এমনকি আমার পরেও জড়িয়েছে। যারা আমার আগে ছিল তারা পিসিবির সঙ্গে কাজ করতে পেরেছে। আমার পরের অনেকে খেলছেও। সবাইকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে কেউ কেউ আমার মতোই বঞ্চিত। পিসিবি আমাকে বাঁচানোর চেষ্টাই করেনি।’
এরপরে আসিফ আরও যোগ করেন, ‘আমি এমন একজন বোলার ছিলাম, যাকে বিশ্বের সবাই আলাদা করে গোনায় ধরতো। যাই হোক, অতীত নিয়ে আর ভাবতে চাই না, এসব নিয়ে পড়ে থাকার মানুষ নই আমি। যা হয়েছে তা ইতিহাস। তবে ক্যারিয়ারে যতটুকুই খেলেছি, বিশ্বকে নাড়িয়ে দিতে পেরেছিলাম।’ ঠিক তাই, সত্যিই নাড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন এই পেসার। টেস্টে সবচেয়ে উজ্জ্বল আসিফ মাত্র ২৩ টেস্টে তুলেছেন ১০৬ উইকেট। ছিলেন আইসিসি টেস্ট বোলার র্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে। ব্যাটসম্যানরা এখনও সবচেয়ে কঠিন বোলারের জায়গা উচ্চারণ করেন তাঁর নাম। আর এসব গর্ব নিয়ে থাকা আসিফ আরও বলেন, ‘এত বছর পর এখনও বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানরা আমাকে মনে রেখেছেন। তারা আমাকে নিয়ে কথা বলেন। চিন্তা করুন, বিশ্ব ক্রিকেটে আমি কতটা প্রভাব ফেলেছিলাম। আমি এতে গর্ববোধ করি। কেপি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, হাশিম আমলারা আমার প্রশংসা করেন। এটা আমাকে আনন্দ দেয়।’





