এপ্রিলে দৈনিক উত্তোলন ৬০ হাজার ব্যারেল বাড়িয়েছে রাশিয়া

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥গত ১ মে থেকে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি কার্যকর হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়িয়েছে চুক্তির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য দেশ রাশিয়া। রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত এপ্রিলে দেশটির কূপগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় ৬০ হাজার ব্যারেল বাড়ানো হয়েছে। এমনকি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) দেশটি থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। রুশ উত্তোলন ও রফতানি খাতের এ চাঙ্গা ভাব আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির সাম্প্রতিক রেকর্ড দরপতনের বড় একটি কারণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
রুশ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে রাশিয়ার কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। গত এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে, যা আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৬০ হাজার ব্যারেল বেশি।
গত মাসে রাশিয়ায় সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির মাসভিত্তিক উত্তোলন ২০১৯ সালের জানুয়ারির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। ওই মাসে রাশিয়ার কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছিল।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়ার উত্তোলন খাতের এ চরম চাঙ্গা ভাব আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বছরের শুরু থেকেই নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ কমতে শুরু করে। চাহিদা কমলেও জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমায়নি রাশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। ফলাফল হিসেবে বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দরপতন ত্বরান্বিত হয়।
তার ওপর মার্চের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরব ও রাশিয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে মূল্যযুদ্ধ শুরু করে। বিরোধের জের ধরে বাজার ধরতে দুই দেশই জ্বালানি পণ্যটির বিশেষ মূল্যছাড় দেয়। এতে রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়ে জ্বালানি তেলের বাজার। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যারেল শূন্য ডলারের নিচে নেমে যায়। নজিরবিহীন এ দরপতনের পর পরই টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর। বাজার ভারসাম্য ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে সমঝোতায় আসে ওপেক-নন ওপেক দেশগুলো। জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসে চুক্তি করে দেশগুলো।
১ মে থেকে কার্যকর হওয়া এ চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন প্রায় এক কোটি ব্যারেল কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তির শর্ত মেনে মে ও জুনে দেশটি প্রতিদিন গড়ে ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে আনতে পারে।
এ বিষয়ে রুশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান লুকঅয়েলের ইনভেস্টর রিলেশনস বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার পালিভদা বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে রাশিয়ায় প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হয়েছে। চলতি মাসে দেশটিতে সেই তুলনায় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ১৯ শতাংশ কমে আসতে পারে। মে মাসে রাশিয়ার কূপগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ওপেক-নন ওপেক দেশগুলোর আওতায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির শর্ত মেনে চলতি মাসে রাশিয়া জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন রেকর্ড পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে।
শুধু উত্তোলন নয়, বরং রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি খাতেও চরম চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মূল্যযুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করে মস্কো। মূল্যছাড় বিদ্যমান থাকায় আমদানিকারকরাও তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি খাত চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়লেও গত এপ্রিলে রাশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন খাতে মন্দা ভাব বজায় ছিল। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে রাশিয়ায় সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৫১৪ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমেছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।