স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর)॥ যশোরের মনিরামপুরে দেনাগ্রস্থ তারক দাস নামে এক ফেরীওয়ালা এবং আছিয়া বেগম নামে রোগগ্রস্থ এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার লাশ দুইটি উদ্ধারের পর পুলিশ বেলা ১২ টার দিকে ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। এ ঘটনায় পৃথক দুইটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। নিহতরা হলো ঘুঘুদাহ গ্রামের মৃত জসবন্ধু দাসের ছেলে তারক দাস এবং মুন্সিখানপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী আয়শা বেগম।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ আলী এবং এলাকাবাসী জানান, ঘুঘুদাহ গ্রামের তারক দাসের ছেলে-মেয়েরা(এক ছেলে দুই মেয়ে) বিয়ের পর থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করে আসছে। গ্রামের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে তারক বসবাস করে আসছিলেন। তারক দাস অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় এলাকার কয়েকজন সুদে কারবারীর কাছ থেকে চড়াসুদে ঋন নিয়ে হাড়ি-পাতিল কিনে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করে বেড়াত। কিন্তু সুদে কারবারীদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় সে। ফলে সুধে কারবারীদের কড়া তাগিদে তারক দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারকের স্ত্রী মিনতী দাস জানান, শনিবার রাত আটটার দিকে তার স্বামী ওষুধ কেনার জন্য বাজারে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। রোববার সকালে এলাকাবাসী বাড়ির পাশে একটি মেহগনি গাছের সাথে তারকের ঝুলন্ত লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। অন্যদিকে মুন্সিখানপুর গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী আয়শা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ব্রেষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে স্বামী গোলাম রব্বানী সন্তানসহ অসুস্থ্য স্ত্রীকে ফেলে রেখে নওয়াপাড়ায় আরএকটি বিয়ে করে সেখানে বসবাস করে। ফলে অর্থাভাবে সুচিকিৎসার অভাবে আয়শা বেগমের অবস্থার দিন দিন অবনতি হয়। এক পর্যায়ে সে মানষিক বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। রোববার ভোরবেলা ঘরের আড়ায় আয়েশার ঝুলন্ত লাশ দেখে পরিবারের লোকজন থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে বেলা ১২ টার দিকে পুলিশ গিয়ে দুই স্থান থেকে লাশ দুইটি উদ্ধার করে। তদন্তকারী অফিসার এসআই সৈয়দ আজাদ জানান, লাশ দুইটি উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়। ওসি(তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, এ ব্যাপারে থানায় পৃথক দুইটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।





