সতর্ক হয়ে উঠেছে চৌগাছার বড়বাড়ি রাজাপুরের মাদক কারবারিরা

এম আর খান মিলন, চৌগাছা (যশোর) থেকে ফিরে ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলার বড়বাড়ি-রাজাপুর গ্রামের মাদক হাটে বিক্রেতা ও সেবনকারীরা সতর্ক হয়ে উঠেছে। তবে আরও কিছু রাঘোব বোয়ালের নামও উঠে এসেছে। মাদকের নীল ছোবলে গ্রামদুটি বিষাক্ত করে তোলার পিছনে ওই সব রাঘোব বোয়ালদের ভূমিকাও কোন অংশে কম নয় বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন।
গত ২৮ এপ্রিল দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় চৌগাছার বড়বাড়ি-রাজাপুর মাদকের হাট, প্রতিদিন বেচাকেনা ১০ লাখ টাকা শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই রাজাপুর বাজারসহ সীমান্তবর্তী ওই সব গ্রামগুলোতে মাদক বিক্রেতা ও ক্রেতার আনা গোনা বহুলাংশে কমে গেছে। এ কারনে উপজেলা সদরসহ সীমান্তে বসবাস করা শান্তি প্রিয় মানুষ লোকসমাজের প্রশাংসা করেছেন। বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারনে চৌগাছায় ছাপা পত্রিকা কম আসায় অনেকেরই পত্রিকা পড়া হয়নি, তবে মানুষের মুখে খবর শুনেই যেন তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এমনটিই জানা গেল বিভিন্ন বাজার ও মোড়ে অবস্থান করা মানুষের সাথে কথা বলে।
সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল সরেজমিন চৌগাছা উপজেলা সদর হয়ে টেংগুরপুর মোড়, খড়িঞ্চা বাজার, কমলাপুর মোড়, পুড়াপাড়া বাজার, চুলকানি মোড় হয়ে মাদকের হাট সেই বড়বাড়ি-রাজাপুর বাজার এমনকি পাশের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর বাজারে গেলে শোনা যায় লোকসমাজ পত্রিকার গুনোগান ও মাদক বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের বর্তমান অবস্থা। এ সময় স্থানীয় অনেকে জানান, প্রকাশিত সংবাদে দুই জন রাঘোব বোয়ালের নাম আসেনি। তারা গ্রাম দুটির যুব সমাজসহ গোটা এলাকাকে নষ্ট করে ফেলেছে।
এলাকাবাসী জানান, বড়বাড়ি গ্রামের নেকবার আলীর ছেলে মনু মিয়া ও একই গ্রামের হানেফ আলীর ছেলে মহর আলী বড় ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। সম্প্রতি মহর আলীকে বিজিবি সদস্যরা আটক করে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করেন। বর্তমানে সে জেল হাজতে আছে। তবে বহাল তবিয়াতে আছে অপর ব্যবসায়ী মনু মিয়া। মনু মিয়া ও মহর আলীর সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও সোচ্চার আছে, সুযোগ পেলেই মাদক নিয়ে ছুটছে গন্তব্যে। বড়বাড়ি গ্রামের যে সব ছাত্র আজ মাদকের ব্যবসায়ের সাথে সম্পৃক্ত তার ৭০ শতাংশ হচ্ছে মনু ও মহর আলীর হাতে গড়া বলে জানান এলাকাবাসী। টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রদের হাতে তারা তুলে দিয়েছে মরণনেশা মাদক ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবা। বড়বাড়ি রাজাপুর গ্রামে গড়ে উঠা মাদক বেচাকেনার এই চক্রটি দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। তাদেরকে এখনই প্রতিহত করতে না পারলে চরম মূল্য দিতে হবে স্থানীয় সকলকে এমনটিই মনে করছেন এলাকায় বসবাসকারী শান্তি প্রিয় মানুষেরা।

ভাগ