স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়ায় হাশেম আলী খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের ৪ দিন পার হয়ে গেলেও আসামিদের আটকে পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। পুলিশ বলছে, ‘ঘটনার অনেকদিন পরে মামলা হয়েছে। এ কারণে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
গত ১৫ জানুয়ারি হাশেম আলীর ছেলে আছর আলী প্রতিবেশীর খেজুরগাছ থেকে রস পান করেন। এ নিয়ে কথাকাটির জের ধরে ওইদিন রাতে স্থানীয় একটি চক্র তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হন হাশেম আলী। পরদিন সকালে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেন হামলাকারীরা। এছাড়া তাকে আরো মারধর করা হয়। ফলে তিনি চিকিৎসা না পেয়ে সন্ধ্যায় মারা যান। পরে পুলিশ হাশেম আলীর লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সম্প্রতি পুলিশের হাতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসে। এতে উল্লেখ করা হয়, আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ফলে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে হাশেম আলীর স্ত্রী লিলিমা বেগম ১৮ জনকে আসামি করে গত ২৯ এপ্রিল কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। প্রধান আসামি করা হয় নারায়ণপুর (ভাতুড়িয়া) গ্রামের মৃত উসমান আলীর ছেলে নুর ইসলাম ওরফে নুরু মুহুরিকে। এছাড়া মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন, নুরু মুহুরির ছেলে ইসরাজুল হোসেন, ভাই ইউনুস আলী, ভাতুড়িয়া গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান, মৃত আকবর আলীর ছেলে মিন্টু, আবুল কাশেমের ছেলে কবিরুজ্জামান কাজল, মৃত ইনতাজ আলীর ছেলে জাকির হোসেন, আবদুস সামাদের ছেলে আতিয়ার রহমান ওরফে আতি খোকা, ওয়াজেদ ড্রাইভারের ছেলে আল-আমিন, মৃত লতিফ গাজীর ছেলে আহসান, আব্দুল মান্নানের ছেলে বাপ্পী, হাশেমের ছেলে রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালামের ছেলে রাজু, মািফজুর রহমান মিস্ত্রির ছেলে সোহেল, রবিউল ইসলামের ছেলে ইমরান, মৃত ওমর আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, রওশনের ছেলে আব্দুল গফ্ফার এবং চাঁচড়া এলাকার ইনামুল হোসেন। এদিকে হাশেম আলী খুনের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হলেও আসামিদের আটকে অদ্যাবধি পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, নুরু মুহুরিসহ সকল আসামি এলাকায় রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। পুলিশ আসামিদের আটকে পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। ফলে বাদীর পরিবারের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শাহজাহান আহমেদ আসামিদের আটকে পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বলেন,‘ঘটনার অনেকদিন পর মামলা হয়েছে। এ কারণে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’





