চৌগাছায় ২ মাসের সন্তান রেখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)॥ যশোরের চৌগাছায় লাইলাতুল জান্নাত (৩৪) নামে এক গৃহবধু ঘাষপোড়া পাউডার খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার ইশরাক (১২) ও ইশান ২ মাস নামে ২টি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের এনামুল কবির ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলী বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগে জানান, তার মেয়েকে জোর পূর্রক মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ইফতারের পর সে ঘরের দরজা বন্ধ করে বিষ ( ঘাস পোড়া পাওডার) খান। রাতেই তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। লাইলাতুল জান্নাত নড়াইল জেলার মহেশখোলা গ্রামের অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলীর কন্যা। চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ময়না তদন্তের পর বলা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পিতা অ্যাডভোকেট তাইয়েব আলী মোবাইল ফোনে জানান ইসমাইল প্রায়ই তার মেয়েকে নির্যাতন করত। এর আগেও সে একাধিকবার আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। সে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক বিষ (ঘাষ পোড়া পাওডার) খাইয়ে হত্যা করেছে।
পাবিরবারিক সুত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে ইসমাইল ও জান্নাতের বিবাহ হয়। বিয়ের পর ইসমাইল স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা থেকে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীতে চাকরি করতেন। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে গেলে গ্রামে চলে আসে। সূত্র জানায় তাদের বিবাহের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। জান্নাত শহরের মেয়ে তাই শহরে থাকতেই সে স্বাচ্ছন্দ বোধ করতো। ইসমাইল বিয়ের পর তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে গ্রামে চলে আসেন এবং প্রায় স্ত্রীকে নির্যাতন করতো। এসব নিয়ে স্ত্রীর সাথে গোলমাল লেগেই থাকতো।
সূত্র জানায় তাদের বড় ছেলে ইমরান হোসেন ইশরাকের জন্মের পর জান্নাত পারিবারিক কোন্দলের কারণে নড়াইল বাবার বাড়িতে গিয়ে বেশ কয়েক বছর অবস্থান করেন। সে সময় জান্নাতের পিতা ইসমাইলের নামে ২/৩ টি মামলা করেন। ৩/৪ বছর মামলা চলার পর সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে আবার তারা ঘরসংসার শুরু করেন। দুইমাস আগে তাদের আরেকটি ছেলের জন্ম হয়। সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য কোলহ প্রকাশ্যে রুপ নেয়। ইসমাইল হোসেন জানান, কোন কোলহ ছাড়াই বৃহস্পতিবার ইফতারের পর আমি তিলকপুর বাজারে যাই। এ সময় আমার স্ত্রী ছেলে ইশানকে বড় ছেলে ৭ম শ্রেণির ছাত্র ইশরাকের কাছে রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘাস পোড়া ঔষধ খায়। ছেলের কান্নাকাটি ও চেঁচামেচিতে আমার মা বাবা ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজার ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। আমি সংবাদ পেয়ে বাড়ি এসে তাকে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পারিবারিক কোন্দলের বিষয় এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন ঐদিন কোন গোলমাল হয়নি।

ভাগ