স্টাফ রিপোর্টার॥ পারভীন সুলতানা একজন গৃহপরিচারিকা। দুই ছেলে নিয়ে থাকেন ভাড়া বাড়িতে। স্বামী আয়-উপার্জনের পথ না পেয়ে চলে গেছেন গ্রামে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে আয় হয় তা দিয়ে ঘরভাড়া এবং সংসারের খরচ চালাতে হয় পারভীনকে। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর দেড় মাস কোন কাজ নেই। আইডি কার্ড নিয়ে গিয়েছিলেন কাউন্সিলরের বাড়িতে। নাম ঠিকানা দিয়েছেন শিক্ষকদের কাছে। তার জন্যে পৌরসভা ও প্রশাসনের দুটি মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। পারভীন প্রতিদিন পেপারে ত্রাণ বিতরণের ছবি দেখে। কোথায় কখন, কারা দিচ্ছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না পারভীন। না পাওয়া না খাওয়ার অব্যক্ত বেদনা নিয়ে দিন কাটছে তার।
পারভীন সুলতানা যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে থাকেন। তার মতো বহু গৃহপরিচারিকা ও কর্মহীন মানুষ রয়েছে এ ওয়ার্ডে। যারা কোন ত্রাণ সামগ্রী পাননি। পৌরসভার পক্ষ থেকে যা দেয়া হয়েছে তা খুবই সামান্য। যা একটি পাড়ার জন্যেও যথেষ্ট নয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও অনেকের ভাগ্যে এক মুঠো চালও জোটেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে এ কর্মহীন মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
একজন ুদ্র ব্যবসায়ী প্রায় দুইমাস ধরে দোকান বন্ধ করে বসে আছেন। যে পুঁজি ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। এমন মানুষের বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কথা বলে পৌরসভা থেকে একটা মোবইল নম্বরে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তার মতো অনেকেই আবেদন করেছিলেন। এরপর দু’সপ্তাহ পার হয়েছে। কিন্তু কিছুই মেলেনি। ২৮ এপ্রিল ০১৭১৫-১৪৩৯৪২ মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে চান ওই ব্যবসায়ী। উত্তর আসে, সুবিধা প্রদান বন্ধ হয়ে গেছে। ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে রেকর্ড করা কন্ঠে ধন্যবাদ পেয়েছেন তিনি। তিনি পেয়েছেন ভুল তথ্য দিলে জেল জরিমানার হুমকি। এরপর ত্রাণের জন্যে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে কোন সদুত্তোর পাওয়া যায়নি। কর্মহীন মানুষ এভাবেই বঞ্চিত হচ্ছেন। এটা শুধুমাত্র ১ নং ওয়ার্ডের চিত্র নয়। পৌরসভার সকল ওয়ার্ডেই রয়েছে কর্মহীন বঞ্চিত অবহেলিত মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।




